টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই ও সেকেন্ড অফিসার) মো. রুবেল হোসেন এবং থানার দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য রামপ্রসাদ সরকার রবিনের বিরুদ্ধে একটি নিরীহ পরিবারকে জিম্মি করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চক্রের মাধ্যমে সাজানো অভিযোগে নিরীহ লোকজনকে টার্গেট করে ডাকাতি, মাদক, ছিনতাই ও নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। রুবেল ও তার সহযোগীদের প্রতারণার শিকার তিন ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার চেয়ে পুলিশের মহাপরির্দশক (আইজিপি) ও ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে মির্জাপুর উপজেলার ১০ নম্বর গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের মো. জামাল উদ্দিন (৬২) অভিযোগ করেন, তিনি গোড়াই এলাকার আল আমিন, রেহেনা ও রীনা বেগমের কাছে জমি বাবদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ও মাতব্বরদের মাধ্যমে তার ভাগিনা শওকত হোসেনের নামে তারা ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেন। কিন্তু চেকটি জামাল উদ্দিন গত ১০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে জমা দিলে ‘টাকা নেই’ বলে কর্তৃপক্ষ ফেরত দেয়। এসআই রুবেল ও তার সহযোগীরা ‘চেকটি হারানো গেছে’ মর্মে লেখানো এক ভুয়া জিডির মাধ্যমে উলটো জামাল উদ্দিন ও শওকতকে গত ২০ অক্টোবর গভীর রাতে ধরে এনে থানায় আটকে ডাকাতি ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে সেই চেক হাতিয়ে নেন। ন্যায়বিচার চেয়ে জামাল উদ্দিন গত ৬ ডিসেম্বর এসআই রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইজিপি ও ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রুবেলের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ করেছেন নাজিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম, টাকিয়া কদমা গ্রামের আব্দুল মান্নান, তার ভাই বিল্লাল হোসেন, শুকুর, আক্কাছ, মামুনসহ ১০-১৫ জন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের ব্যাপারে এসআই রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি পুলিশের হেডকোয়ার্টার্স অফিস সূত্রে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারীর চেক ফেরত দেওয়া হয়েছে। জনগণের সেবা করতে গিয়ে দু-একটি ভুল হতেই পারে।’ অন্যদিকে রামপ্রসাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) ও ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে ছাড় পাবেন না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
