সন্ধ্যা নামতেই শহিদ মিনারের বেদিতে জ্বলে ওঠে আলোকশিখা। প্রদীপের আলোয় জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণ করা হয়। শিল্পীরা গেয়ে ওঠেন—আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে/এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে...। জাতির মননকে আলোকিত করা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত অনুষ্ঠানে এভাবেই শ্রদ্ধা জানাল শহিদ বুদ্ধিজীবীদের।
গান কবিতা আলোচনায় দেশের শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি জানাল শিল্পীরা। গতকাল নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আলোড়িত হয়েছেন রাজধানীর সংস্কৃতি ভুবন। সকালে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, সংগীত পরিবেশনা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। কবিতাপাঠ ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, আবৃত্তিশিল্পী মীর বরকত, মফিজুর রহমান, মাহিদুল ইসলাম, মজুমদার বিপ্লব, রফিকুল ইসলাম, শিমুল মুস্তাফা, মিজানুর রহমান সজল, কাজী বুশরা আহমেদ তিথি। সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস। পাশাপাশি রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধেও একাডেমির পক্ষ থেকে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, সংগীত ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি হাসান হাফিজ, মিনার মনসুর ও অসীম সাহা। আবৃত্তি করেন ইকবাল খোরশেদ, গোলাম সারোয়ার, লায়লা আফরোজ, মাহমুদা আখতার, কাজী মাহতাব সুমন, নায়লা তারান্নুম কাকলী এবং ফয়জুল আলম পাপ্পু। সংগীত পরিবেশন করেন মাইনুল আহসান ও শীলা রাণী দেবী।
এদিকে, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে হেমন্ত সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বালন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াস, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট প্রমুখ।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ভাস্কর্যের বিরোধিতা করার নামে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মতো ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। এর মাধ্যমে নিজেদের নগ্ন চেহারা আবার জাতির সামনে তুলে ধরেছে এই সাম্প্রদায়িক শক্তি। মূলত একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধীরাই নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে আবার। শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করা হবে।
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের সবেচেয়ে মেধাবী সন্তানগুলোতে হত্যা করেছে। যারা শিল্প, সংস্কৃতি ও আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের আগ্রাসন ও দমন নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর। এতে একক বক্তৃতা করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কৃতী সন্তানদের হত্যার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে জাতিকে দুর্বল এবং পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে পাক হানাদার বাহিনী। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
