পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে খালাস পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। একই সঙ্গে যাদেরকে সাজা হ্রাস করে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধেও আপিল করা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া চার আসামির বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খালাস পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।
গতকাল নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ পর্যন্ত চার জনের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করেছি। যারা হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন এবং যাদের সাজা হাইকোর্ট হ্রাস করেছে তাদের সকলের ক্ষেত্রেই আপিল দায়ের করা হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রায় ৫৩ হাজার পৃষ্ঠার একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। ৫৩ হাজার পৃষ্ঠা করে এভাবে আরো ১০টি পিটিশন দায়ের করা হবে। তাই এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে এর পাশাপাশি আরো কিছু সংযুক্তি পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে অব্যাহতি চেয়ে আমরা আদালতে আবেদন জানাব। এরপর খুব দ্রুত আপিলের শুনানি শুরু করতে পারব বলে আশা রাখছি।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তত্কালীন বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৫২ বিডিআর জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখে। আট জনের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন ও চার জনকে খালাস দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। ১২ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া জজ আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ আসামির মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ মামলায় চার জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনকে খালাসের বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট।
