তরুণ প্রজন্মের কাছে বুদ্ধিজীবীদের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে —ঢাবি উপাচার্য

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:২৮

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের জীবনাদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য শিক্ষক, গবেষক ও লেখকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শহিদ বুদ্ধিজীবীদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে সব মহত্ অর্জনের আগে কিছু কলঙ্কজনক অধ্যায়ের নজির পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগে ২৫ মার্চ কালরাতে এদেশে গণহত্যা চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এই গণহত্যার কেন্দ্রবিন্দু। একইভাবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আগে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুও ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেদিন দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে যারা সহযোগিতা করেছিল, সেই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিই আজ ভাস্কর্য ও সৃজনশীলতার বিরুদ্ধে কথা বলছে। এদের চরিত্র এবং উদ্দেশ এক ও অভিন্ন। এই অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।

সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. লুত্ফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া বক্তব্য রাখেন। রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণের স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধ এবং মিরপুর ও রায়েরবাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।