যাত্রী ভোজাই লঞ্চ চালকরা প্রতিযোগিতার নামে মেতে উঠে মরণখেলায়

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৪

বরিশাল, চাঁদপুর, পিরোজপুর শরিয়তপুর, ভোলা ও পটুয়াখালীসহ ৩৯ টি নৌরুটের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলি ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পৌঁছতে অহেতুক প্রতিযোগিতার নামে একটি লঞ্চ আরেকটি লঞ্চকে চাপা দিতে মরণ খেলা মেতে থাকে লঞ্চের সারেঙ ও সুকানিরা। এরকম মরণ খেলার প্রতিযোগিতা বন্ধ না করা গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটার আশংকা রয়েছে। 

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পটুয়াখালী থেকে আসা লঞ্চ যাত্রী হেলাল জানায় অহেতুক লঞ্চ চালকরা প্রতিযোগিতার নামে এক লঞ্চ আরেক লঞ্চকে ধাক্কা দিতে থাকে। এরকম প্রচণ্ড ধাক্কা নারী ও শিশু যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বুড়িগঙ্গা নদীর নৌপুলিশ এসব মরণ খেলাকে দেখেও না দেখার বান করছে। এরমধ্য আবার লঞ্চের পাশে বেপরোয়া ভাবে থাকছে বালিবাহী ও পাথরবাহী বালগ্রেড ও কারগো। 

এছাড়া শীতের ঘনকুয়াশায় রাতে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ টি বালিবাহী বালগ্রেড ও পাথরবাহী কারগো জাহাজ বুড়িগঙ্গার ভক্তাবলি, পাগলা, হাসনাবাদ, বরিশুর, বছিলা ও আমিন বাজার এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ীতে এক হাজার টাকা করে মোট ছয়টি ফাঁড়ীর নৌপুলিশকে ছয় হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে আইন অমান্য করে এসব মালবাহী নৌযান চলাচল কারার অভিযোগ রয়েছে। আর একারণে যে কোন মুহূর্তে কুয়াশার জন্য বুড়িগঙ্গায় নৌ দুর্ঘটনার আশংকা করছে এলাকাবাসী। তাছাড়া প্রতিদিনই বালগ্রেড কারণে ঘটছে ছোটবড় অনেক দুর্ঘটনা। 

নাম না প্রকাশ শর্তে বালিবাহী বালগ্রেড ও কারগোর কয়েকজন চালকরা জানায় সিলেট থেকে পাথর নিয়ে রাতে বুড়িগঙ্গা নদীতে ঢুকলে বক্তভলি, পাগলা হাসনাবাদ, বরিশুর, বছিলা ও আমিন বাজার সহ ছয়টি নৌপুলিশ ফাঁড়িকে এক হাজার টাকা করে ছয় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। ভোর ছয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত বালগ্রেড ও কারগো চালকদের কাছ থেকে পাঁচশো করে তিন হাজার টাকা নৌপুলিশ কে চাঁদা দিয়ে আমিন বাজার পৌছতে হয়। প্রতিদিন রাতে ও দিনে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রায় ২৩০ থেকে ৩২৫ টি বালগ্রেড ও কারগো জাহাজ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার কারে বুড়িগঙ্গা নদীতে দিনে রাতে বেপরোয়া মালবাহী জাহাজ ও বালগ্রেড। আর একারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় নৌ দুর্ঘটনা। 

এ ব্যাপার নৌ পুলিশ ফাঁড়ীর দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে চাঁদা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তবে রাতের কেন মালবাহী জাহাজ বা কারগো কেন চলতে দেয়া হয়। এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি নৌপুলিশ কাছ থেকে। এলাকাবাসীদের দাবি জরুরি বৃত্তিতে রাতে বুড়িগঙ্গা নদীতে মালবাহী বালগ্রেড ও কারগো জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হউক এবং অহেতুক যাত্রীবাহী লঞ্চের প্রতিযোগিতার নামে মরণ খেলা ও বন্ধ করা হউক।

ইত্তেফাক/এসআই