বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষ। হামলায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।
সমাবেশ শুরুর আগেই মঞ্চ ও একুশে হাসপাতাল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও বাসের গ্লাসে ভাঙচুর করা হয়। টায়ার, কাঠের টুকরা জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ।
হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর বিকালে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়।
ওই সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিনের পরিচালনায় মুঠোফোনে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো নাছির আহম্মেদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল।
বক্তৃতা চলাকালীন সময়ে পুনরায় মঞ্চকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা। এতে সভাটি ভন্ডল হয়ে নেতাকর্মীরা ছুটাছুটি শুরু করে। ওই সময় আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারপরই গাজী মো. মাঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে হাজীগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় নেতাকর্মীরা।
সাবেক পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলম শুভ বলছেন, ভাঙচুর ও হামলাকারীরা সাংসদ মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নামে মিছিল নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামধারী একাংশ।
জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মাসুদ ইকবাল ও যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন সোহেল বলেন, হাজীগঞ্জে বাজারে এই ঘটনায় যুবলীগের কোন নেতাকর্মী সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে জানতে পেরেছি, রাহী নামের একজনের সাথে সিগারেটের ধোঁয়া নিয়ে ফরহাদ নামের এক ছেলের সাথে বাগ-বিতণ্ডা হয়। তারই সূত্র ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
তারা আরো জানান, যদি কোন ভিডিও ফুটেজ বা ছবিতে যুবলীগের কোন নেতাকর্মীকে এই হামলায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ কেউ দিতে পারে, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তারা কখনো আওয়ামী লীগের লোক হতে পারে না। এখানে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ, একটি সহযোগী সংগঠন এক ক্ষমতাধর নেতার ছত্রছায়ায় একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে। এমন সন্ত্রাসী কার্যক্রম এই হাজীগঞ্জে আর কোনদিন হতে দিবো না।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফজাল হোসেন বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ যথা সময়ে দায়িত্ব পালন করেছে। বিশেষ করে চাঁদপুর থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ ও দুইটি বিশেষ টিম কাজ করেছে। আমরা দুইপক্ষের সাথে কথা বলেছি। হাজীগঞ্জ বাজারের পরিবেশ শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
