ঝুঁকি নিয়েও সফল

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫১

যমুনা পাড়ের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান বিদ্যুত্। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার মলমগঞ্জে তার পৈতৃক বাড়ি হলেও জন্মের পর থেকে বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন এলাকায় তার শৈশবের সময়গুলো কাটে। তবে প্রাথমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই চলে যান দাদা বাড়িতে। সেখানে থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি বিকশিত হতে থাকেন তিনি। ৮ম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি কারিগরি শিক্ষা লাভের জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তারপর ময়মনসিংহ পলিটেকনিকে পড়ার সময় থেকেই মনের মধ্যে কারিগরি বিষয়ে দক্ষ হওয়ার ঝোঁক তৈরি হয়। কিন্তু পরিবারের অসহযোগিতা আর প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেইনটেইন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিতে যোগ দিতে বাধ্য হন তিনি। ১৪ বছর পর হঠাত্ করেই চাকরি ছেড়ে দেন বিদ্যুত্। লক্ষ্য ছিল নিজেকে সৃজনশীল পেশায় যুক্ত করা। ঢাকার ওয়ারিতে বসবাসকালে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নতুন স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু করলেও সফলতা আসেনি। অবশ্য একের পর এক ব্যর্থতায়ও দমে যাননি বিদ্যুত্। আবারও নতুন উদ্যমে শুরু করেন স্বপ্নপূরণের অভিযাত্রা। অনেকটা বিনে পয়সায়ই কয়েকটি কাজ করেন ঢাকার পূর্বাচলের ছোট ছোট রেস্টুরেন্টে। কিন্তু একদিন জামালপুুরের শেরপুর ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তার চোখে পড়ে সেতুলি গার্ডেন নামের একটি নির্মাণাধীন পার্কের। সেটির মালিক বিদ্যুেক সেখানে কাজ করার সুযোগ দেন। তারপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক প্রজেক্ট আসতে থাকে হাতে। জামালপুরের চাইল্ড সিটি, জয়পুরহাটের শিশু উদ্যান, গাজীপুরের মেঘ বাড়ি রিসোর্ট, ফরিদপুরের ফান প্যারাডাইস, মুন্সীগঞ্জের ঢালি আমবার এবং নরসিংদীর হেরিটেজ রিসোর্টে কাজ করে আজ স্বাবলম্বী এই তরুণ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। প্রজেক্টের কাজের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তুলেছেন ‘পারফেক্ট টেক’ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান। এ প্রসঙ্গে আতিকুর রহমান বিদ্যুত্ বলেন, ‘ডিপ্লোমা  ইঞ্জনিয়ারিং শেষ করার পর  থেকেই সৃজনশীল কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। উদ্যোক্তা হয়ে মানুষের জন্য কিছু করার যে বাসনা ছিল তার অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছি এই অল্প সময়ে। ইচ্ছা আছে কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করার।’