কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ধান ও চালের বাজারদর বেশি হওয়ায় কামারখন্দে রোপা আমন মৌসুমে গুদামে চাল দিতে অনাগ্রহ কৃষক ও কলমালিকদের। এতে করে ধান ও চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত ৫০টি চালকল রয়েছে। গত ৭ নভেম্বর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু এ বছর সরকারিভাবে ধান ও চাল বিক্রি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন কৃষক ও চালকলের মালিকেরা। কৃষকেরা জানান, সরকার প্রতি মণ ধানের দর ১ হাজার ৪০ টাকা বেঁধে দিয়েছে। তারা খোলাবাজারেই ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা প্রতি মণ ধান বিক্রি করছেন। তাই কৃষকেরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চাইতে অধিক মূল্যে খোলাবাজারে ধান বিক্রি করছেন। অন্যদিকে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ মনোয়ার বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তর গত বোরো মৌসুমে প্রণোদনার আশ্বাস দেওয়ায় প্রতি কেজি চালে ৫-৭ টাকা লোকসান দিয়ে আমরা চালকলের মালিকেরা সরকারিভাবে ধান দেওয়ার চুক্তি করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রণোদনা পাইনি। বর্তমানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ ধান কিনতে হচ্ছে চালকলের মালিকদের। এতে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা। প্রতি কেজি ১ টাকা বাড়িয়ে ৩৭ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। এতে চালকলের মালিকদের প্রতি কেজিতে ৭ থেকে ৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। আর কৃষকের ধানের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২৬ টাকা কেজি। এতে প্রতি কেজি চাল পড়ছে ৪১ টাকা। ধান ও চালের দাম সমন্বয় না হলে আমরা এবার কোনো চালকলের মালিক রোপা আমন মৌসুমে সরকারিভাবে চাল দিতে চুক্তি করব না।’ উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক ডালিম কাজী বলেন, চালকলের মালিকেরা যদি চাল না দেন, তাহলে সরকার প্রয়োজনে বিদেশ থেকে হলেও আমদানি করে দেশে চালের চাহিদা পূরণ করবে। চালকলের মালিকেরা যদি সরকারিভাবে চাল দিতে চুক্তি না করেন, তাহলে খাদ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, যদিও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; তার পরও চালকলের মালিকদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কোনো মালিক যদি বোরো মৌসুমে সরকারকে চাল দিয়ে থাকেন, তাহলে আমন মৌসুমে বোরো মৌসুমের ২০ শতাংশ চাল বেশি দিতে পারবেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার মেট্রিকটন। ইতিমধ্যে ৩৫ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। বাকি ধান অল্প সময়ের মধ্যে কর্তন করা হবে।
