ইত্তেফাক ডেস্ক
ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
কালাই (জয়পুরহাট) : এদিন সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অটো ভ্যানচালক মনোয়ার বলেন, ‘শীতের কারণে অটোভ্যান নিয়ে কাজে বের হতে পারছি না। উপজেলার মাত্রাই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর ও আশিক জানান, শিশিরের কারণে বোরোর বীজতলা প্রায় নষ্ট হতে বসেছে।’ বৃদ্ধ আলতাব আলী (৯০) বলেন, ‘শীতের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না।’ কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের মো. তানভীর হোসেন বলেন, তীব্র শীতের কারণে ফুসফুসের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া ও আমাশয়জনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোবারক হোসেন পারভেজ বলেন, কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) :ঘন কুয়াশার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উপজেলার ৪৫০ হেক্টর ইরি-বোরো বীজতলা এবং ছয় হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রবি ফসল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, ঘন কুয়াশার ঝুঁকি থেকে ফসল বাঁচাতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, উপজেলায় সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পঞ্চগড় :শীতে বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। রিকশাচালক আসলাম হোসেন জানান, ১০ হাত দূরেও ঠিকমতো কোনো কিছু দেখা যায় না। যাত্রীও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ডিগ্রি সেলসিয়াস।
