তিন বছর পর ব্যবসায়ী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত
পিনাকি দাস গুপ্ত
হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর বহুল আলোচিত কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত শ্যালকের স্ত্রী রোজিনা ও তার স্বামী মোমিন গ্রেফতার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় তার মা তমিরুন নেসা বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় শহিদুলের শ্যালক মোতাহারের স্ত্রী রোজিনা বেগম, তার বাবা জব্বার শেখ ও মা মতিরন নেসাকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়। থানা পুলিশের পর পুলিশ সদর দপ্তর ২০১৯ সালের নভেম্বরে অপহরণ মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
ঘটনার বর্ণনায় সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘অপহরণ মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাবার পর গত ২২ নভেম্বর কুমারখালী থেকে রোজিনা বেগমকে গ্রেফতার করি। পরবর্তী সময় রোজিনা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেন। জানা যায়, শহিদুলের শ্যালক মোতাহারের সঙ্গে রোজিনা বেগমের বিয়ে হয়। মোতাহারের ভালো ঘর না থাকায় তিনি স্ত্রীসহ দুলাভাই শহিদুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। এ সময় শ্যালকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ায় শহিদুল। বিষয়টি জানাজানি হলে, মোতাহার তার স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাড়ি করে সেখানে থাকা শুরু করেন। তবে এর কয়েক বছর পর মোতাহার মারা যান। এর মধ্যে শহিদুলের স্ত্রীও মারা যান। তখন শহিদুল শ্যালকের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়মিত করার চেষ্টা করেন। তবে সম্পর্ক থাকলেও রোজিনা শহিদুলকে বিয়ে করতে রাজি হয় না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই সুজিত্ কুমার ঘোষ জানান, কয়েকমাস পর রোজিনা মানিকগঞ্জে এসে একটি কোম্পানিতে কাজ নেন। সেখানে মোমিন নামে এক জনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। মোমিনের গ্রামের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। তাকে বিয়ে করে রোজিনা। তবে এর পরও শহিদুল তাকে ফোন দিতেন। পরবর্তী সময় মোমিন ও রোজিনা পরিকল্পনা করে শহিদুলকে হত্যা করার। এরপর তারা দুই জন ঢাকা থেকে মাগুরার শ্রীপুরে চলে যান। শহিদুলকে ফোনে বিবাহ করার প্রস্তাব দেয় রোজিনা। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিয়ের কথা বলে শহিদুলকে শ্রীপুরে নেওয়া হয়। রাতে এক খোলা মাঠে নিয়ে শহিদুলকে কুপিয়ে হত্যা করে রোজিনা ও মোমিন।
