বঙ্গবন্ধুর চার খুনির রাষ্ট্রীয় খেতাব স্থগিত

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১৭

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার খুনির মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐ চার জনকে এই রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার পরও তাদের খেতাব বাতিলের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। ঐ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিবকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের রিট মামলা করার জন্য আবেদনকারীর প্রশংসা করেছে আদালত।

খেতাব স্থগিত হওয়া ঐ চার খুনি হলেন, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) এস এইচ এম এইচ নুর চৌধুরী, লে. (বরখাস্ত) এ এম রাশেদ চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন ওরফে মুসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐ চার খুনির মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। রিটে বলা হয়, ১৯৭৩ সালে সাত জনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীর উত্তম, ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম ও ৪২৬ জনকে বীর প্রতীক খেতাব দিয়ে সরকারি গেজেট জারি হয়। ঐ গেজেটে ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক ছয় খুনির মধ্যে নূর চৌধুরীর নামের সঙ্গে বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিমের সঙ্গে বীর উত্তম, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের সঙ্গে বীর প্রতীক খেতাব রয়েছে। ২০১৫ সালে ঐ তালিকা হালনাগাদ করা হয়। কিন্তু দণ্ডিত হওয়ার পরেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি। রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা পারভীন বিথী শুনানি করেন।

শুনানিতে কাইয়ুম খান বলেন, এই চার জন দণ্ডিত অপরাধী। দণ্ডিত অপরাধীর রাষ্ট্রীয় খেতাব থাকার সুযোগ নাই। যদি তাদের নামের পাশে রাষ্ট্রীয় খেতাব থাকে তাহলে তা সংবিধান ও আইনকে কলুষিত করে। তিনি বলেন, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় খেতাব বিবেচনা-পুনর্বিবেচনার জন্য কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিগুলো যে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন দেয়, তার ভিত্তিতে খেতাবের স্বীকৃতি বহাল রাখা হয় বা বাতিল করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই দণ্ডিত অপরাধীদের খেতাব বাতিলের কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নিতে দেখা যায়নি। সেজন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাইছি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট খেতাব স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। রুলে ঐ চার খুনির খেতাব কেন বাতিল করা হবে না এবং খেতাব বাতিলে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এদের রাষ্ট্রীয় খেতাব স্থগিত থাকবে বলে হাইকোর্টের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারী সুবীর নন্দী দাস বলেন, রাষ্ট্রীয় খেতাবধারী কেউ যদি অসদাচরণ বা অবৈধ কাজ করে, যা খেতাবের মর্যাদার বিপরীত, তাহলে তা বাতিলের সুযোগ আছে। প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ খুনির মধ্যে ইতিমধ্যে ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বাকি ছয় খুনি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে দেশে ফেরানোর সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার।