জাপানে ‘টুইটার কিলার’ তাকাহিরোর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:৩৮

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা টুইটারে পরিচয়, এরপর নিজের বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা। এভাবে নয় জনকে হত্যার অভিযোগে জাপানে মঙ্গলবার এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির এক আদালত। ‘টুইটার কিলার’ নামে পরিচিতি পাওয়া তাকাহিরো শিরাইশির (৩০) ঘটনায় জাপানে তোলপাড় পড়ে গেছে।

তাকাহিরোর মূল টার্গেট ছিল মানসিকভাবে দুর্বল কিশোরী বা তরুণীরা, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৬ এর মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ আত্মহত্যার ইচ্ছে বা হতাশা প্রকাশ করলেই তাদের সঙ্গে টুইটারের মাধ্যমে যোগাযোগ করত তাকাহিরো। তারপর তাদের আত্মহত্যার পরিকল্পনায় সাহায্য করবে বা নিজেও তার সঙ্গে আত্মহত্যা করবে বলে আশ্বস্ত করত। অবশেষে নিজের বাড়িতে ডেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে, খুন করত তাদের। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এভাবে অন্তত নয় জনকে খুন করে সে। তবে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় পুলিশের হাতে। তার পরই জাপানে তার নাম হয়ে যায় ‘টুইটার কিলার’।

আদালতে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তাকাহিরো। তবে তার আইনজীবীরা ফাঁসির বদলে কারাদণ্ডের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, নিহতরা টুইটারে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন এবং তাদের সম্মতি ছিল। তাকাহিরো তাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু বিচারকের পর্যবেক্ষণ, ‘নিহত ৯ জনের কেউ খুনের সম্মতি দেননি। এমনকি, নীরব সম্মতিও দেননি।’ এই যুক্তিতেই প্রাণদণ্ডের আদেশ দিয়ে বিচারকের মন্তব্য করেন, ‘৯টি তরতাজা প্রাণ শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।’

মঙ্গলবার টোকিওর রায় শুনতে আদালতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রায় ৫০০ জন। তাদের মধ্যে নিহতদের পরিজনদের অনেকেই ছিলেন। ২৫ বছর বয়সি এক নিহত তরুণীর বাবা বলেন, ‘এখনো মেয়ের বয়সি কাউকে দেখলেই মনে হয় আমার মেয়ে। নিজের মেয়ে বলে ভুল করি। ওকে আমি কোনো দিন ক্ষমা করতে পারব না। ফাঁসিই ওর উপযুক্ত শাস্তি।’