কলেজছাত্রীকে বাসায় ডেকে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৪৬

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভুল তথ্য দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে দুই বন্ধু মিলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেখতে আসার অনুরোধ জানিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ঐ কলেজছাত্রীকে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করেছে।

আক্রান্ত ছাত্রীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কান্না করে পায়ে ধরে আকুতি জানিয়েও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পাননি ঐ কলেজছাত্রী। বরং কান্নার আওয়াজ যাতে বাইরে না যায় সেজন্য উচ্চ শব্দে গান চালিয়ে দেয় দুই ধর্ষক। আক্রান্ত কলেজ ছাত্রীটি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানার একটি এলাকার বাসায় এই ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ দিন আগে এই ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখনো অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত দুই যুবকের নাম রাকিবুল হাসান আরিয়ান (২০) এবং মেহেদী হাসান আশিক রাব্বানী বাবু (২৩)। এদের মধ্যে রাকিবুল হাসান আরিয়ান নগরীর আকবর শাহ থানার জানারখিল আরিফ চৌধুরী বাড়ির ভাড়াটিয়া মমতাজ চৌধুরীর ছেলে। আর মেহেদী একই থানার পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনির ঈদগাহ মাঠের পূর্বপাশে ই-পি লেনের আব্দুল বাতেন মেম্বারের ভবনের পঞ্চম তলার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাহেদের ছেলে। মেয়েটি নগরীর একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

মহানগরী পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল হক গতকাল জানান, দুই বন্ধু মিলে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে আকবর শাহ থানায় মামলা হয়েছে। ছেলে দুই জন বখাটে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত অব্যাহত আছে।

ভিকটিম কলেজ ছাত্রীর পরিবারের একটি সূত্র পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান যে, রাকিবুলের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে পরিবারের চাপে মাসখানেক আগে মেয়েটি সে সম্পর্ক ভেঙে দেয়। গত ১১ ডিসেম্বর বিকালে বই কেনার কথা বলে মেয়েটি বাসা থেকে বের হয়। রাতে ভীষণ অসুস্থ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে কান্না শুরু করে। কলেজ ছাত্রীটি তার অভিভাবকদের জানায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলে তাকে ফোন করেছিল রাকিবুল। আহত অবস্থায় সে মেহেদীর বাসায় আছে জানিয়ে তাকে সেখানে যাবার অনুরোধ করে। দুর্ঘটনার কথা শুনে কলেজ ছাত্রীটি ঐ বাসায় ছুটে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে দেখতে পায়, রাকিবুলের দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবরটি মিথ্যা। বাসায় ঢোকার পর তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে মেয়েটি দুজনের পায়ে ধরে কান্না শুরু করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কলেজছাত্রীটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইত্তেফাক/এমআর