বিজয়ের দিনে শহিদদের সশ্রদ্ধ স্মরণ

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:১৮

ইত্তেফাক ডেস্ক

যথাযথ মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। বিজয়ের দিনে শহিদদের সশ্রদ্ধ স্মরণ করে সর্বস্তরের মানুষ। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

বরিশাল : গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এরপর যথাক্রমে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ৯টায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বিসিসি মেয়রের নেতৃত্বে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়।

রাজশাহী : দিবসের প্রথম প্রহর থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত বীর শহিদদের প্রতি লাখো মানুষের বিনম্র ফুলেল শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে শহিদ মিনারগুলো। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

খুলনা : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর গল্ল­­ামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার সকালে সার্কিট হাউজে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ভোরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভসূচনা হয়।

ময়মনসিংহ : কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন জাতীয় সংসদ সদস্য মনিরা সুলতানা মনিসহ অন্যরা। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ভার্চুয়াল আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

নরসিংদী : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভসূচনা করা হয়। সকাল ৬টায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অপর্ণ করা হয়।

নেত্রকোনা : জেলা প্রশাসক অফিস প্রাঙ্গণে ’৭১-এর স্মৃতিস্তম্ভে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে’ ফারুকী পার্কে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নওগাঁ : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের মুক্তির মোড়ে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

লালমনিরহাট : দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভসূচনা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধতে শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও সব শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কুড়িগ্রাম : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১বার তোপধব্বনির মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কলেজ মোড়স্থ স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

মাগুরা : শহরের নোমানী ময়দান শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

সিরাজগঞ্জ : দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১বার তোপধ্বনি করা হয়। বাজার স্টেশস্থ বিজয় স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পঞ্চগড় : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চগড় ডিসি অফিসসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে ৩১বার তোপধ্বনি করা হয়। শহিদদের স্মরণে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

নড়াইল : ৩১ বার তোপধ্বনির পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, বধ্যভূমি, গণকবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ, গণকবর জিয়ারত ও মোনাজাত এবং বঙ্গবন্ধু মঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

জয়পুরহাট : সকাল সাড়ে  ৬টায় ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন সংগঠন শহিদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

গোপালগঞ্জ : ৭১-এর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। ৩১বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভসূচনা করা হয়।

বাগেরহাট : বাগেরহাট ও মোংলায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। শহিদদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনটির শুভসূচনা করা হয়।

খাগড়াছড়ি : ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের প্রতিনিধিরা এসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নাটোর :৩১ বার তোপধ্বনি, স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে নাটোরে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অপর্ণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মৌলভীবাজার :প্রথম প্রহরে মৌলভীবাজার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

চাঁপাইবাবগঞ্জ :মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্যাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। অন্যদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার উপজেলা জেপির নেতৃবৃন্দ দলের উপজেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির সদস্য সচিব শাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির কো-চেয়ারম্যান ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, যুগ্ম-আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম দোদুল, কাওছার আহমেদ দুলাল, হারুন অর রশিদ পান্না, উপজেলা মহিলা জাতীয় পার্টি-জেপির সভানেত্রী সুলতানা রাজিয়া রানী, উপজেলা যুব সংহতির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রিপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান লাভলু, উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি আক্তারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক জসীম মীর, উপজেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আবুল বাশার মৃধা প্রমুখ। 

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) :গতকাল সকালে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। দিনের প্রথম প্রহরে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকালে পতাকা উত্তোলনসহ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করা হয়।

কাউখালী (পিরোজপুর) :উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভসূচনা করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল ৮টায় কাউখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনের মধ্যদিয়ে বশেমুরবিপ্রবি, কুষ্ঠিয়ার ভেড়ামারা ও দৌলতপুর, জামালপুরের ইসলামপুর, নোয়াখালীর সেনবাগ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ত্রিশাল ও গফরগাঁও, মৌলভীবাজারের জুড়ী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, চৌহালী ও বেলকুচি, নরসিংদীর পলাশ, নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা, পাবনার চাটমোহর, ঈশ্বরদী ও ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া, মাদারীপুরের টেকেরহাট, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া, টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও মির্জাপুর, ফরিদপুরের মধুখালী, সালথা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর, কুমিল্লার লাকসাম, তিতাস, হোমনা ও মনোহরগঞ্জ, বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, মেহেরপুরের গাংনী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর, জয়পুরহাটের কালাই ও পাঁচবিবি, বরিশালের আগৈলঝাড়া, নওগাঁর নিয়ামতপুর ও বদলগাছী, শরীয়তপুরের গোসাইহাট, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দুমকি, ফেনীর দাগনভূঞা, দিনাজপুরের কাহারোল ও বিরামপুর, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী, ভোলার মনপুরা, নেত্রকোনার মদন ও কেন্দুয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, নাটোরের বড়াইগ্রাম, চাঁদপুরের কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের নিকলী, বরগুনার বামনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়।