খাল ভরাট, কচুরিপানা ও বাঁধ
শাখাওয়াত হোসেন শামীম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
হাজীগঞ্জে খাল ভরাট, খাল দখল, খালে কচুরিপানা, বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা এবং অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে নামছে না আবাদি জমির পানি। উপজেলার বিভিন্ন বিলের পানি এখনো না কমায় বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষক। ফলে বিলম্ব হচ্ছে বোরোসহ রবি শস্যের চাষ। রবিশস্যের আবাদ নিয়ে শঙ্কিত চাষিরা।
নাসিরকোট ও রামপুর মাঠের আবদুল আলিম, আবুল খায়ের, নুরুল ইসলামসহ কয়েক জন কৃষক বলেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি খাল হয়ে নদীতে নামতে পারছে না। পানি জমে থাকায় চাষিরা ধানচাষের জন্য জমি তৈরি করতে পারছেন না। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরোর চাষ ব্যাহত হচ্ছে। দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. জাকির হোসেন জানান, স্থানীয়দের হালট ও খাল দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট করার কারণে আমাদের দেওদ্রোন মাঠের (বিল) পানি এখনো নামেনি। যার ফলে কৃষকেরা জমিতে বীজতলা ও চারা রোপণ করতে পারছে না। কালচোঁ দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া বোয়ালজুরি খাল থেকে কচুরিপানা অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি দরখাস্ত করেছেন। তিনি বলেন, খালে এতো বেশি কচুরিপানা নৌকা চলাচল তো দূরের কথা, ঠিকমতো পানিও নামছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুর রহমান জানান, যথা সময়ে বিল থেকে পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে শষ্য উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বিলের পানি নামছে না, এমন অভিযোগে বেশ কয়েকটি আবেদনপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমাদের কাছে এসেছে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং আবেদনপত্রগুলো বিএডিসির কর্মকর্তার কাছে ফরওয়ার্ড করেছি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব মো. মামুন রশিদ জানান, খাল দখল, পলি জমে খাল ভরাট, খালে কচুরিপানা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছ আহরণ এবং বিভিন্ন বাজার এলাকায় খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখাসহ বিভিন্ন কারণে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিলের পানি নামতে দেরি হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি বৈশাখী বড়ুয়া জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) মো. মামুন রশিদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে খাল ভরাট বা খালে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তার সমাধান সরকারিভাবে করা হবে। আর যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে খাল দখল করে থাকেন, তা অপসারণ করার জন্য তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। যদি কেই নির্দেশনা অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
