শার্শায় অসময়ে কালো তরমুজ চাষে সাফল্য

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৪

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

যশোরের শার্শা উপজেলায় বারোমাসি জাতের কালো তরমুজ ‘ব্ল্যাক বেরি’র চাষে সাফল্য পেয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। চীন থেকে আমদানি করা তরমুজের এই জাতটি চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন উলাশীর রেন্টু হোসেন, কাঠশিকড়া গ্রামের মোমিনুর রহমান ও সুবর্ণখালি গ্রামের আলী রেজা। ফলন, দাম ও চাহিদা বেশি থাকায় বেশি লাভের আশায় নতুন এই তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় অন্য চাষিরাও।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলায় এই প্রথম ৪০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজের চাষ হয়েছে। সারা বছরে পাওয়া যায় ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজটির ওপরে দেখতে কালো হলেও ভেতরে টকটকে লাল এবং খেতেও সুস্বাদু।

এক বিঘা ১২ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা এসেছে রেন্টুর। তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেবি তরমুজগুলো সাধারণত তিন থেকে চার কেজি ওজনের হয়। আমরা মাঠ থেকে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি। বছরে তিন বার ফলন পাওয়া যায়, বিঘায় ফলে ১০০ থেকে ১২০ মণ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা বলেন, চলতি বছরের গত এপ্রিল মাসে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কাঠশিকড়া গ্রামের মোমিনুর রহমান ও সুবর্ণখালি গ্রামের আলী রেজা ১৫ শতক করে জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক বস জাতের তরমুজের চাষ করেন। তারা বারোমাসি তরমুজ আবাদ করে এলাকায় নতুক চমক সৃষ্টি করেছেন।

সুবর্ণখালি গ্রামের আলি ও কাঠশিকড়া গ্রামের মোমিনুর রহমান জানান, এই জাতীয় তরমুজ বিক্রি করে বিঘাপ্রতি জমিতে মাত্র দুই মাসে ১ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। বেকার যুবকদের জন্য এটা একটা নতুন বার্তা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল বলেন, বর্তমানে ধান, গম, পাটসহ অন্য ফসল চাষে ফলন ভালো হলেও, কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না। বর্তমানে শার্শার কৃষকরা এসব ফসলের পাশাপাশি উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক ফসল চাষে ঝুঁকছেন। ব্ল্যাক বেবি তরমুজে সফল হওয়ায় এর চাষ বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।