মহান বিজয় দিবসে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের আলোচনাসভায় একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কুখ্যাত আল বদর কমান্ডার কোহিনূরকে গ্রেফতার ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও বিকাশ বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনির।
এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবাহান তুলা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শামসুল আলম, জেলা পরিষদ সদস্য এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আলমনগর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন ও প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ৭১ সালের জুন মাসে ঝাওয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক এবং সুরেন্দ্রবালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মসলিম উদ্দীনকে টাঙ্গাইল শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে জেলা আলবদর কমান্ডার মনিরুজ্জামান কোহিনূর। এ আলবদর কমান্ডারের বাড়িও গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের বেডাডাকুরি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মুসলিম লীগ নেতা সবুর উদ্দীন মাস্টারের পুত্র। মনিরুজ্জামান কোহিনূর ৭১ সালে টাঙ্গাইল জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া ও ভারতীয় তথা যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পশ্চাৎপসারণ করে ঢাকায় আশ্রয় নেন। ১৬ ডিসেম্বর রমনা রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রধান জেনারেল একে নিয়াজী ৯৩ হাজার খান সেনা নিয়ে যৌথবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। আলবদর কমান্ডার কোহিনূর পাকিস্তানি সেনা হিসাবেই আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ১৯৭৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি খান সেনাদের সাথে ভারতের জব্বলপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে শিমলা চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কারাগার থেকে তারা মুক্তি পান। আলবদর কমান্ডার মনিরুজ্জামান কোহিনূর ছাড়া পেয়ে তাদের সাথে পাকিস্তানের আশ্রয় নেন। পাকিস্তানের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন। পাকিস্তানি নাগরিক হিসাবে তিনি জাপান যান। ২০০২ সালে একটি মহলের যোগসাজশে কৌশলে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ আসেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন এবং এলাকায় কোটি টাকা দানখয়রাতের রাজত্ব খুলে নিয়েছেন। সরকার ২০০০ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী মসলিউদ্দীনের নামে ২ টাকার একটি স্মারক টিকেট প্রকাশ করেন। কিন্তু শহীদ পরিবার আজো এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার না পেলেও আলবদর কমান্ডার মনিরুজ্জামান কোহিনূর সদম্ভে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
বক্তারা তাকে দ্রুত গ্রেফতার এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দাবি জানান। সাংসদ ছোট মনির জানান, এ কুখ্যাত ঘাতকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী আইনে মামলা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএএম
