প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুয়ারে থেকে সেবা দিয়ে আজ সফল কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সে ক্লিনিকের কর্মচারীরা। করোনাকালে এই কর্মীরাই সম্মুখ যোদ্ধা। পরামর্শ থেকে সেবার জন্য তাঁরা জনগণের কাছে আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। অথচ এই কর্মীরা আজ নয় বছর এক বেতনে চাকরি করছেন। কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। প্রথমে রাজস্বের আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় সংসদে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন পাশ হয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়। ঐ আইনের ২৪ ধারায় কর্মীদের সরকারি চাকরির মতো সব সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে। এরপর ঊর্ধ্বতনদের বারবার নির্দেশনার পরও আইন বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে। সমস্ত কর্মীর আবেদন—তাদের চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর নতুবা দ্রুত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে রাজস্বখাতের প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। কর্মীদের রাজস্বখাতে নিয়ে ক্লিনিক ট্রাস্ট দিয়ে পরিচালিত হলেও তাঁদের আপত্তি নেই। এর মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনকালে বহু সিএইচসিপি মারা গেছেন। সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েও মারা গেছেন অনেক কর্মী। কিন্তু সরকার বা প্রকল্পের পক্ষ থেকে কর্মীর পরিবার কোনো আর্থিক সহায়তা পায়নি, শুধু শোকবার্তা সম্বলিত চিঠি ছাড়া! প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার দেওয়া এই প্রকল্পের কর্মীদের বঞ্চিত করে কার লাভ হচ্ছে—এখন সেই প্রশ্ন অনেকের মনে।
কাজী সুলতানুল আরেফিন
ফেনী
