বাড়ছে সাতকরা আমদানি

সিলেট কাস্টমসের আয় বাড়ছে

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১৩

হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ফল হাতকরা বা সাতকরার স্থানীয় চাহিদা প্রচুর হলেও দেশে উত্পাদন কম হওয়ায় এর বেশির ভাগই আসছে সীমান্তের ওপার থেকে।  জানা যায়, ভারতের আসাম সীমান্তের কাছাকাছি সিলেটের জৈন্তায় সাতকরা কিছু উত্পন্ন হলেও বেশির ভাগ সাতকরা আসে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও মিজুরাম থেকে। এলসির মাধ্যমে প্রায় সারা বছরই ‘হাতকরা’ আমদানি হয় সিলেটে বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন দিয়ে। তবে শীতের প্রারম্ভে এই ফলটি বেশি আমদানি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র চার মাসে ‘হাতকরা’ আমদানি বাবদ সিলেট কাস্টমস এক্সসাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনার অফিস ২ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। যার অনুকূলে ২ হাজার ১৮ দশমিক ২২ টন হাতকরা সিলেটের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি হয়। অন্যদিকে আগের বছর প্রথম চার মাসে ‘হাতকরা’ আমদানি হয় ৯৭৩ মেট্রিক টন। যার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬১০ টাকা।

সিলেট কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনার হোসেইন আহমদ বলেন, সঠিক তদারকীর মাধ্যমে এই খাতে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সিলেটের শুল্ক স্টেশনগুলোর বেশির ভাগই দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।

সিলেট কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি বলেন, সাধারণত শেওলা, তামাবিল, চেলা ও জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে বেশি সাতকরা আমদানি হয়। আর এর বেশির ভাগ চলে যায় বিদেশে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, সিলেটে উত্পাদন বাড়ানোসহ যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিদেশে সাতকরার বাজার সৃষ্টি হতে পারে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সিলেটের মাটিতে প্রচুর অম্ল রয়েছে। এই মাটিতে ও টিলা ভূমিতে সাতকরা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে লেবুজাতীয় ফলে ক্যাংকারজাতীয় ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ায় তা বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। তারা জানায়, সিলেটে বাজারে প্রতিহালি হাতকরা সময় ভেদে ৮০-১০০ টাকা। আবার কোনো কোনো সময় এর দাম ৪০০-৫০০ টাকায়ও উঠে। কোরবানির ঈদে হাতকারা চাহিদা বেড়ে যায় সিলেটে।