ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বঙ্গবন্ধু জাতিকে একটি অনন্যসাধারণ সংবিধান উপহার দিয়ে বলেছিলেন, এই সংবিধান ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তে লেখা। এটি রক্ষার দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চিহ্নিত মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তাদের রাজনৈতিক, সামরিক ও আদর্শিক উত্তরাধিকারীরা জাতির পিতার দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর বারবার আঘাত করছে। এই অপশক্তিকে পরাজিত ও নির্মূল করতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। ৫০তম বিজয় দিবসে তরুণদের এই হোক শপথ।
গতকাল বুধবার বিকালে সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে পাঁচটি দেশের ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় বিজয় :নতুন প্রজন্মের নিকট আমাদের প্রত্যাশা ও করণীয়’। সকালে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ এবং শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্মূল কমিটির ৫০তম বিজয় দিবস পালনের কর্মসূচি আরম্ভ হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, যারা বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনকে ভারতের চক্রান্ত ও ইসলামবিরোধী বলেছিল, যারা একাত্তরে ইসলামের দোহাই দিয়ে গণহত্যা ও নারী নির্যাতন করেছিল তারাই আজকে ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলছে ইসলামের দোহাই দিয়ে। এরা যুগে যুগে ধর্মের আধ্যাত্মিকতা বা প্রধান বিষয় বাদ দিয়ে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও ব্যবসা করছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আক্রোশের প্রধান কারণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু তাদের সাধের পাকিস্তান ভেঙেছিলেন। দেশের প্রকৃত মুসলমান বা প্রকৃত আলেমরা এদের সমর্থন করেন না। ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তে লেখা সংবিধান এবং সংবিধানে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সংবিধানে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব অসংগতি রয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে, সেসব অর্ধশিক্ষিত তথাকথিত আলেমদের কাছে আমরা ইসলামকে ইজারা দেইনি। কোরআন হাদিসের কোথাও ইসলামের এ ধরনের ঠিকাদারির ব্যবস্থা নেই।
মূল প্রবন্ধে নির্মূল কমিটির তরুণতম নেতা তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাকিল রেজা ইফতি বলেন, এদেশের তরুণরা ইতিহাস জানে এবং পড়ে কিন্তু এই ইতিহাসের পেছনের চেতনা নিয়ে ভাবে না। আমাদের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসটি যে ফেলনা নয়, এর মাহাত্ম্য ও গভীরতা যে কতটা মূল্যবান, সেই চেতনা তরুণদের লালন করতে হবে। এই চেতনার মূল উত্স হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, যা প্রতিফলিত হয়েছে বাহাত্তরের সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রের চার মূলনীতিতে।
শহিদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বালন, আলপনা অঙ্কন, বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা, ভাস্কর্য নির্মাণ—বাঙালি সংস্কৃতির এ ধরনের অভিব্যক্তি সম্পর্কে মৌলবাদীরা অহরহ ধর্মের নামে অপব্যাখ্যা করে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা করছে। আমাদের মনে রাখতে হবে—ভাষা ও সংস্কৃতির কোনো ধর্ম হয় না।
আলোচনায় আরো অংশ নেন সাংবাদিক মানস ঘোষ, সমাজকর্মী ইলোরা দে, চলচ্চিত্রনির্মাতা প্রকাশ রায়, লেখক সাব্বির খান, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক মারুফ রসুল, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট কবীর চৌধুরী তন্ময়, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, সমাজকর্মী অলিদ চৌধুরী, সমাজকর্মী আজাদ জাহান শামীম, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী প্রমুখ।
