বরিশাল অফিস
বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা ও মহানগর কর্তৃক আয়োজিত বিজয় র?্যালিপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, এদেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের ধর্ম ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিছু ভুঁইফোঁড় সংগঠন ও জনবিচ্ছিন্ন নেতা। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মসূত্রে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি তার প্রত্যেকটি বক্তব্যে ইসলামের অবস্থান জানান দিয়েছেন। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, এদেশের মানুষকে মুক্ত করেই ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। তার সে ঐতিহাসিক ইনশাআল্লাহর ধ্বনিতে উজ্জীবিত হয়ে এদেশের মুসলমানরা স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রাম করে এ ভূখণ্ডকে স্বাধীন করেছে। সেই সংগ্রামী মুসলমানদের বাদ দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কল্পনাও করা যায় না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ছাত্র যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা সভাপতি মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া হামিদী ও জেলা সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় র?্যালিপূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, বরিশাল সিটি নির্বাচনে হাতপাখার মেয়রপ্রার্থী হাফেজ মাও. ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা সৈয়দ নাছির আহমাদ কাওছার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য নওমুসলিম ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে ফয়জুল করীম আরো বলেন, রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে যে বাংলাদেশ আমরা স্বাধীন করেছি, সেই স্বাধীনতা স্বপ্নই রয়ে গেল। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলেও স্বাধীনতার মৌলিক দাবি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেতে রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে সম্পৃক্ত করতে চান তাদের জানা উচিত ইসলামই ছিল একাত্তরে স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের নির্মাণ ও পরিচালনায় ইসলাম ছিল প্রাধান্য বিস্তারকারী একমাত্র শক্তি। এ সময় মুক্তিযুদ্ধে মুসলমানদের অবদান এবং চরমোনাই মাদ্রাসার অবস্থান তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন শ্রী দুলাল দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহীদ গাজী, মো. আ. হালিম মজুমদার প্রমুখ।
