তুচ্ছ ঘটনায় যুবককে নির্যাতন
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আবারও ফিল্মি স্টাইলে তাণ্ডব চালিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং। তুচ্ছ ঘটনায় আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হয়। সড়ক বন্ধ করে কিশোর গ্যাংয়ের সাত-আট সদস্য মিলে দুই দফায় তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাষাঢ়ার বিজয়স্তম্ভের নিকটবর্তী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রিপারেটরি স্কুলের মধ্যবর্তী বঙ্গবন্ধু সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আলমগীর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটে।
আলমগীর হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে হেঁটে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় শহরের আমলাপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকার ইসলাম মিয়ার বখাটে ছেলে অনিক ও তার এক বন্ধু মোটরসাইকেল বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাওয়ার সময় তার শরীরে ধাক্কা লাগে এবং তিনি ব্যথা পান। এতে আলমগীর প্রতিবাদ করলে অনিক তাকে চড়-থাপ্পড় মারে। উভয়ের মধ্যে বাগিবতণ্ডার এক পর্যায়ে অনিক ও তার বন্ধু বাহার তাদের কথিত বড় ভাইসহ কয়েক জনকে ফোন করলে মুহূর্তের মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়-সাত জন ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। সবাই মিলে তাকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে তার পকেট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে হুমকি দিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে সদরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেন। এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আমলাপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, অনিকের মা ফতেহ ও বাবা ইসলাম চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা ইতিপূর্বে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে ঋষিপাড়ায় ভাড়া থাকত। ইয়াবা বিক্রির কারণে এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি কয়েক মাস আগে বিচার সালিশ ডেকে তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করে । এর পর থেকে তারা আমলাপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকে। সেখানেও তারা ইয়াবার ব্যবসা করছে। পাশাপাশি অনিক কিশোর গ্যাং তৈরি করে আমলাপাড়া, মাছুয়াপাড়া, মিশনপাড়া, ডন চেম্ব্বার ও খানপুর এলাকায় ছিনতাই এবং ইয়াবা বিক্রির নেতৃৃত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে মাছুয়াপাড়া এলাকার বাহার নামে এক সন্ত্রাসী। ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক পরিমল বলেন, খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের গ্রেফতার করতে মাছুয়াপাড়া ও আমলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাইনি। তবে অভিযান চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা এলাকার দায়িত্বে থাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করে তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে আমরা আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
