‘আমি গাইব বিজয়েরই গান’

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪০

 ‘আমি গাইব-গাইব বিজয়েরই গান/ তারা আসবে চুপি চুপি/ কেউ যেন ভুল করে গেও না কো ঘুম ভাঙা গান/ সব কটা জানালা খুলে দাও না’—সাবিনা ইয়াসমিনের এ গানের কথার মতো লাখ লাখ মানুষ গতকাল বুধবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমবেত হয়ে হূদয়ের জানালা খুলে অভিবাদন জানাল দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের। করোনা মহামারির সময়েও বিজয়ের এ দিনে উত্সবমুখর ছিল সারা দেশ। সংসদ ভবনসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সেজেছিল লাল-সবুজের আলোকসজ্জায়। পাড়া-মহল্লায় বেজেছে দেশাত্মবোধক গান ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। বিভিন্ন ভবনে তোলা হয় জাতীয় পতাকা। ঝাড়বাতি আর রংবেরঙের পতাকায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ভবন, বাড়ি, সড়ক ও সড়কদ্বীপ। গানে, আবৃত্তি আর নাচের মুদ্রায় বিজয়ের উল্লাস মূর্ত হয়ে ওঠে রাজধানী জুড়ে।

শিল্পকলা একাডেমি : আলোচনা, নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা মনোজ্ঞ আয়োজনে বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী উদ্যাপন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। বিজয়ের প্রভাতে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে কবিকণ্ঠে কবিতা  পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ মান্নান, মুহম্মদ নূরুল হুদা, আসলাম সানি ও রহিমা আক্তার কল্পনা। আবৃত্তি করেন মজুমদার বিপ্লব, তামান্না তিথি, আব্দুল রাকিবিল বারী, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল ও আবু নাসের মানিক। ‘জয় সত্যের জয়, ইতিহাস জানো তুমি, সাড়ে ৭ কোটি মুক্তির সেনা এবং মাগো ভাবনা কেন’ চারটি সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। এতে একক কণ্ঠে দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা গানটি পরিবেশন করেন রুকসানা আক্তার রূপসা, সব কটা জানালা খুলে দাওনা গেয়ে শোনান সুচিত্রা রাণী সূত্রধর, যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে পরিবেশন করেন সোহানুর রহমান সোহান, ভেবোনা গো মা গানটি পরিবেশন করেন আবিদা রহমান সেতু, তুমি বাংলাদেশের ছবি এঁকে দিও গেয়ে শোনান রাফি তালুকদার, মোহনা দাস। একক কণ্ঠে আরো সংগীত পরিবেশন করেন কোহিনুর আক্তার গোলাপী, স্মরণ প্রমুখ। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করেন সাব্বির জামান ও রাজিব। একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের শিশু বিভাগ ও বড়দের দল পরিবেশন করে মনোমুগ্ধকর চোখ ধাঁধানো অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী।

লিয়াকত আলী লাকীর রচনা ও নির্দেশনায় বাঙলা কলেজ যুব থিয়েটার মঞ্চায়ন করে নাটক ‘মুজিব মানে মুক্তি’। ‘সাহসী তারুণ্যে আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামে চারুশিল্পীদের অংশগ্রহণে  আর্টক্যাম্পে অংশ নেন জাহিদ মুস্তাফা, সনজীব দাস অপু, সৈয়দা মাহবুবা করিম (মিনি করিম), শামসুল আলম আজাদ, আলপ্তগীন তুষার, রিফাত জাহান কান্তা, মুক্তি ভৌমিক, মনি দীপা দাস গুপ্ত, জাকির হোসেন পুলক, রত্নেস্বর সূত্রধর ও তৈমুর হান্নান।

দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ পর্বের শুরুতেই জাতীয় নাট্যশালার লবিতে নৃত্যের মাধ্যমে অতিথিদের স্বাগত জানায় নৃত্য সংগঠন স্পন্দন এবং জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন মঞ্চে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংগীত। আলোচনা পর্বে অনলাইনে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তৃতা করেন একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ‘ইতিহাস জানো, জনতার সংগ্রাম চলবে, মাগো ভাবনা কেন এবং তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’ সমবেতভাবে পরিবেশন করেন একাডেমির সংগীতশিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন তিমির নন্দী, দিনাত জাহান মুন্নী, পিন্টু ঘোষ, রাজীব, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও বুলবুল মহলানবীশ। লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় ‘গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশ’ নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা।

জাতীয় জাদুঘর : আলোচনা ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী উদ্যাপন করেছে জাতীয় জাদুঘর। গতকাল জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনের এই আয়োজনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

গণগ্রন্থাগার : বিজয় দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শাহবাগের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারে স্থাপিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। গতকাল সকালে লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলার পাঠকক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এরপরে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠত হয় আলোচনাসভা। মহাপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক এ জে এম আব্দুল্যাহেল বাকী ও তপন কুমার বিশ্বাস।