করোনাকালে চালু করা হয়েছিল ভার্চুয়াল কোর্ট। কিন্তু এর বিরোধিতা করেছিলেন অনেক আইনজীবী। আইনজীবীদের একটি অংশের তীব্র বিরোধিতার মুখে তখন দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে এই পদ্ধতিতে বিচার কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বিরোধিতার অবস্থান থেকে সরে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীরা। শুরুতে নানা সমস্যা থাকলেও ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে তার আপন গতিতে। মামলা নিষ্পত্তির হারও বেড়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছেন আইনজীবীরা। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থান করেও বা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন তারা। তবে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনার সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ কিছু সমস্যা এখনো রয়েছে। এগুলো কাটিয়ে এই কোর্ট পদ্ধতিকে ডেভেলপ করার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালিত হয়ে থাকে। শুরুতে আইনজীবীরা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারবে কি না, সে আশঙ্কা থেকেই বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হওয়ার পর এখন তো দেখছি আইনজীবীরা স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ভার্চুয়াল কোর্টের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে যে কোনো আইনজীবী বিদেশে বসে বা দেশের যে কোনো স্থান থেকে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে পারছেন। এটা প্রযুক্তির বড় অবদান। এতে অনেক সময় বাঁচছে।
গত মার্চ মাসে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষায় বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালত। দীর্ঘদিন বিচার কাজ বন্ধ থাকায় আইনজীবীদের একটি অংশ কোর্ট খোলার দাবিতে সোচ্চার হোন। এমন পরিস্থিতিতে গত মে মাস থেকে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে স্বল্প পরিসরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কাজ চালু করা হয়। তখন এসব কোর্টে আগাম জামিনসহ নানা মামলার শুনানি হচ্ছিল না। এমন অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও সাধারণ আইনজীবী নিয়মিত কোর্ট খুলে দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন। এরপরই ফুল কোর্ট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগস্ট মাস থেকে নিম্ন আদালতে শারীরিক উপস্থিতিতে এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে দুই পদ্ধতিতে (অ্যাকচুয়াল ও ভার্চুয়াল) বিচার কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। এদিকে বর্তমানে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে এবং হাইকোর্টের ৩৫টি বেঞ্চে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কাজ পরিচালনা করছেন বিচারপতিরা। এছাড়া হাইকোর্টের আরো ১৮টি বেঞ্চে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের উপস্থিতিতে বিচার কাজ চলছে। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কাজ পরিচালিত হওয়ায় বেড়েছে মামলা নিষ্পত্তির হার। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে আপিল বিভাগে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট নতুন অভিজ্ঞতা। এই পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে এখনো কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি। যেমন, অনেক সময় মামলা চলছে কিন্তু ইন্টারনেটে ধীরগতি বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় শুনানিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিরসন করা দরকার।
প্রসঙ্গত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ না থাকায় ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত অক্টোবর মাসে ডিপিডিসির এমডিকে তলব করে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।
