বড়লেখায় ছাত্রলীগে সংঘর্ষ, সভাপতিকে ছুরিকাঘাত

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩১

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে নৌকার মিছিলকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বড়লেখা পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি মামলা করেছে। পুলিশ রাতেই বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দরের ভাতিজা বড়লেখা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ফরহাদ এবং রেহান আহমদকে গ্রেফতার করে। রফিকুল ইসলাম সুন্দরের আরেক ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা শিমুল আহমদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পৌরসভার পাখিয়ালা এলাকায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে একটি মিছিল করা হয়। নেতাকর্মীদের না জানিয়ে পাখিয়ালায় মিছিল করায় রাত ৮টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান হোসেনের ওপর হামলা ও তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর হামলার খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিয়ালা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দফায় দফায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বড়লেখা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামাদ আহমদসহ উভয়পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন পুলিশের পাঁচ সদস্য। আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম, এসআই সুব্রত কুমার দাস, এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল তুহেল ও মেহেদী। আহতরা প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।

বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের কমিটির বিরোধ নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২৪ রাউন্ড ফাঁক গুলি করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান, সংঘর্ষের ঘটনায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দুপুর দুইটা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকে। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।