জামিনে বের হয়েও জাল নোটের কারবারে জড়ায় গ্রেফতারকৃতরা। তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ জাল ভারতীয় রুপি, ৩২ লাখ জাল টাকা, মোবাইল ফোনসেট, জাল টাকা-রুপি তৈরির বিশেষ ধরনের কাগজ, নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন ধরনের রং, কেমিক্যাল, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, লেমিনেশন মেশিন, কাটার, বিভিন্ন রকমের ডাইস পাওয়া গেছে। যা দিয়ে আরো কয়েক কোটি জাল টাকা ও রুপি তৈরি করা সম্ভব। দেশের বিভিন্ন জায়গার খোলা বাজার, বিপণী বিতান, যানবাহনের চালক ও হেলপারদেরকে বিভিন্ন কৌশলে ধোঁকা দিয়ে জাল টাকা বিক্রি করে থাকে এ চক্রের সদস্যরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলমের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাজধানীর জুরাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, বাদল খান, মালেক ফরাজী, জসিম উদ্দিন, শিহাব, ওবায়দুল, সাগর ও জামাল।
তিনি আরো বলেন, এ চক্রের বিভিন্ন সদস্য বাগেরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থেকে থেকে জাল টাকা তৈরি করতেন। আসন্ন ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে জাল রুপি ও টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জুরাইন এলাকার শহীদ শাহাদত হোসেন রোড এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এ কাজ করছিল তারা। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। জামিনে থেকেও বেশি টাকা উপার্জনের লোভে তারা বারেবারে জাল টাকা ও রুপি উৎপাদন করছিল।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত জাকির গত বছর অপর সহযোগী ও স্ত্রীসহ ডেমরা থানা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জাকির জাল টাকা ও রুপি তৈরি সম্পর্কে হাতে কলমে ভাল ধারনা রয়েছে। ওবায়দুল ও জসিম এ জাল টাকা তৈরির কারখানায় বিশেষ কাগজ, নিরাপত্তা সুতা তৈরির কাজ করতেন। বাদল ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জের পাইকারি ডিলার। শিহাব রাজধানীর পাইকারি ডিলার। সাগর নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ডিলার। বরিশাল, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে জালনোট সরবরাহকারীদের মূল হোতা জামাল।
ইত্তেফাক/এমএএম
