স্বপ্নের পদ্মা সেতু

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৭

পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। সেতুর সবচেয়ে বড় কাজ শেষ স্প্যানটিও বসে গেছে। পদ্মা সেতু সম্পর্কে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন প্রকল্প তথা বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণ ঘটতে যাচ্ছে বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না। নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শত অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের পক্ষে সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর বাস্তব অবয়ব দাঁড় করানো—সন্দেহাতীতভাবে একটি মাইলফলক। পদ্মা সেতু টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বহুমুখী ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্রয়োজনীয় কর্মসৃজন, অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পের বিকাশ, মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি-প্রভৃতি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব ভূমিকা পালনে বিশেষ সক্ষমতার পরিচয় দেবে ।

ওয়ারেছ আলী খান, সদর, নরসিংদী

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাওয়ার কাজটি সহজ ছিল না। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ করেও ঘুষ ও দুর্নীতির মতো মিথ্যা অভিযোগে তা প্রত্যাহার করেছিল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত দূরদর্শী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। সরকার সমস্ত সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে এ বিশাল সেতু নির্মাণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে। পদ্মা বহুমুখী সেতু কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। স্বপ্নের এই সেতুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। এই সেতু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সেতুবন্ধন ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে, সমগ্র জাতি সে প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেন্ডারিয়া, ঢাকা

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু স্বপ্নবাজ, প্রত্যয়ী, সক্ষম এবং অদম্য বাংলাদেশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।  িসম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দেশের অন্যতম খরস্রোতা নদী এবং তলদেশের ঝুঁকিপূর্ণ গঠনের মধ্যেও ৬.১৫ কিলোমিটারের এই সেতু কেবল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নতুন দ্বারই উন্মোচন করেনি, সেইসঙ্গে সমৃদ্ধ করেছে আমাদের গর্ব ও অহংকারের সোনালি ইতিহাস। অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে যাদের ঘাম ও রক্তে ভেজা অর্থে এই সেতু আজ দৃশ্যমান হলো তাদের সবাইকে অভিনন্দন।

আবু ফারুক

বনরূপাপাড়া সদর, বান্দরবান

পদ্মা শুধু একটা সেতু নয়, দেশের লাখো মানুষের আবেগ অনুভূতি জড়িয়ে আছে এই সেতুর সঙ্গে। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেটা প্রমাণ হয়েছে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির গতি যে কতটা পালটে দেবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। পদ্মা বহুমুখী সেতু কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাদিয়া সুলতানা

সাভার, ঢাকা

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরপূর্তিতে পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সুগম হবে। বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিত্সার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ হবে। সর্বজনীন গ্রামীণ উন্নয়নের ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের আরো উন্নয়ন ঘটবে।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সর্দারপড়া, মুন্সীগঞ্জ

বিদেশি সাহায্য নির্ভরতা কাটিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই প্রত্যয় আজ সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন হয়েছে। সেতুর সবচেয়ে বড় কাজ শেষ স্প্যানটিও বসে গেছে। ধন্য জাতি আজ, ধন্য দেশনেত্রী।

এস কে মো. রমিজউদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। দেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে চলেছে, তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ এই পদ্মা সেতু। ঘন কুয়াশা, ঝড় বৃষ্টি, কিংবা নাব্য সংকটে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব ভোগান্তির অবসান ঘটল এই সেতু হওয়াতে।

মো. খায়রুল ইসলাম ফুল

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

পদ্মা সেতুর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে পদ্মা সেতু।

মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

ইব্রাহীমপুর, ঢাকা

সাহস নিয়ে সামনে এগোলে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। পদ্মা সেতুর কল্যাণে পশ্চাত্পদ দক্ষিণ জনপদ এবার উন্নয়নের ঝলকানিতে ঝলসে উঠবে। এরই ধারাবাহিকতায় অদূর ভবিষ্যতে আরিচা ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় হবে স্বপ্নের আরো দুই সেতু-এটিই প্রত্যাশা।

জয়নব চামেলি

রূপগঞ্জ,  নারায়ণগঞ্জ

আয়তন ও নির্মাণ ব্যয়ের দিক থেকে পদ্মা সেতু দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।  দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের নতুন এই সেতু চালু হলে তার হাওয়া লাগবে অর্থনীতির পালে। দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। কৃষিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সামর্থ্যের ঘাটতি, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের পিছিয়ে যাওয়া-কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। আমাদের গর্বের এ প্রকল্পের কাজে সামান্য ত্রুটি কিংবা দুর্বলতাও কাম্য নয়। যৌক্তিক সময়েই এর কাজ শেষ হোক, এমনটাই কাম্য।

বিলকিছ আক্তার

কাউনিয়া, রংপুর

পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূর্ণতার ছোঁয়া পেয়েছে। এই সেতু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করে। পদ্মা সেতু আমাদের নিজেদের পায়ে ভর করে উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্যতার পরিচায়ক।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান সদর

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অপেক্ষার ইতি ঘটল। এই ঐতিহাসিক মহাযাত্রায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, প্রবৃদ্ধি হবে ২ শতাংশ বা আরো বেশি, বৈশ্বিক সম্পর্ক স্থাপনেও এ সেতু অবদান রাখবে।

গোলাম মাওলা শিমুল

বায়োফার্মা লিমিটেড

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও পদ্মার ওপারের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জনপদ এক প্রকার বিচ্ছিন্ন ছিল। এই বৈষম্যের অবসান হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে সড়ক ও রেলপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব অঞ্চলে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ফলে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে।

মো. জিয়াউল হক সরকার

পূবাইল,গাজীপুর

পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। বিজয়ের মাসে ডিসেম্বরে দৃশ্যমান হলো সেতু। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দেন পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে নিজেদের টাকায়। পদ্মা সেতু অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় করবে। সহজ হবে মানুষের চলাচল। সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্বে এটি একটি অনন্য উদাহরণ।

বজলুল করিম

রিক, ধানমন্ডি, ঢাকা

পদ্মা সেতু দিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো। সংযুক্ত হলো পদ্মার এপার থেকে ওপার; মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুর ও জাজিরা। দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এই সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

মন্জু আজাদ

উত্তরা, ঢাকা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর ৬.১৫ কি.মি. এখন দৃশ্যমান। দৃশ্যমান পদ্মা সেতু এগিয়ে যাক উন্নয়নের সোপান হয়ে—এটিই প্রত্যাশা।

হোসনে আরা বাশার নীলা

ঢাকা

পদ্মা সেতু আমাদের আত্মনির্ভরশীলতার সাক্ষ্য বহন করে। ইস্পাত-দৃঢ় মনোবলের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যাদের শ্রমের বিনিময়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতুর স্বপ্ন আজ বাস্তব, তারা সবাই সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখেন।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম

পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। সেতুর সবচেয়ে বড় কাজ শেষ স্প্যানটিও এখন সম্পন্ন হয়েছে। বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতীক হয়ে থাকবে।

আনতা আনিকা লাবণ্য

আজিমপুর, ঢাকা

অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মধ্যদিয়ে বহু কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই সেতু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম ও লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। পদ্মা সেতু তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ক্রমেই পদ্মা সেতুর আশপাশে গড়ে উঠবে নতুন এক অর্থনৈতিক অঞ্চল।

আবদুল মালেক মিয়া

মিরপুর-২, ঢাকা

বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল অনেক আগে থেকেই পেতে শুরু করেছে। পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান, সবচেয়ে বড় কাজ শেষ করেছে শেষ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে। মহাকাশে স্যাটেলাইট, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণসহ সারা দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। আজ বিশ্ব অবাক হয়ে দেখছে বাংলাদেশের উন্নয়ন। পদ্মা সেতু আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রতীক হয়ে থাকবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

‘সার্থক জন্ম আমার জন্মেছি এ দেশে, সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে’—কবির এই উক্তিটি আজ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মা সেতু। সেতুর সবচেয়ে বড় কাজ শেষ স্প্যানটিও বসে গেছে।  সারা বাংলায় আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে।

মাসুম আহমেদ

যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

স্বপ্নের সেতু বাস্তবে রূপ লাভ করল—এর চেয়ে খুশির খবর কী আর হতে পারে!  নিজেদের অর্থায়নে এটি তৈরি হওয়ায় আজ আমরা বিশ্ববাসীর কাছেও গর্বিত জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছি। জনগণের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেতু তৈরির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)

হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী