করোনায় টিকে থাকার লড়াই

গদখালীর ফুলখেতে সবজি চাষ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৫

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ফুলের রাজধানী গদখালীতে ফুলের পাশাপাশি সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। করোনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফুলে লোকসান হতে পারে ধরে নিয়েই চাষিরা ফুলখেতেই সাথী ও মিশ্র ফসল আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। ফুল খেতের প্রায় ৩০ ভাগ জমিই এখন বিকল্প এ চাষের আওতায় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এসব জমিতে ফুলের পাশাপাশি পেঁপে, টমেটো, ওলকপি, বাঁধাকপি, শশা, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ ও সরিষা আবাদ করা হচ্ছে। এজন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিচ্ছে। 

প্রায় সারা বছরই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের ফুলচাষিরা ফুল উত্পাদন করেন। তবে বছরের বিশেষ কয়েকটি উত্সবের দিনকে ঘিরে ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত হয়। গত বছর করোনা আর আম্পানের থাবায় চাষিরা বেসামাল হয়ে পড়েন। তাদের দাবি, এই দুই সময়ে গদখালীর ফুল সেক্টরে ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা সেভাবে তারা পাননি। বছরের অক্টোবর থেকে এ এলাকার ফুলচাষিরা খেতে নানা জাতের ফুল লাগানো ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে এ বছর একেবারেই ভিন্ন চিত্র। দরোজায় ইংরেজি নববর্ষ, বসন্তবরণ, ভ্যালেন্টাইন ডে, শহিদ দিবস কড়া নাড়লেও ফুলচাষিদের মনে হাসি নেই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসে পড়লে তারা কাঙ্ক্ষিত ফুল বিক্রি করতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। এজন্য তাদের অনেকেই ফুল খেতে সবজি চাষ করেছেন, বস্তুত টিকে থাকার জন্য।

ফুলচাষি শের আলী জানান, ফুলে ‘মার’ খেলেও সবজি চাষ করে টিকে থাকার চেষ্টা করছি। যতই করোনা আসুক ফুল না কিনলেও সবজি মানুষ কিনবে। কারণ সবজি মানুষকে খাওয়াই লাগবে। ইসমাঈল হোসেন বলেন, এখানে ফুল চাষই প্রধান ছিল। কিন্তু করোনার কারণে ফুল বিক্রি করা যায়নি। সামাজিক অনুষ্ঠানই যদি না হয়, তাহলে ফুল বিক্রি হবে কীভাবে? তিনি বলেন, আমরা জমিতে ফুল ও সবজি দুটোই চাষ করছি। কারণ এ বছর করোনার কারণে কী হয় তা বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, আম্পান ও করোনায় ফুলের ওপর এত ক্ষয়ক্ষতি এর আগে হয়নি। মাত্র ৫০ জন প্রণোদনার সহায়তা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অথচ ফুল চাষে জড়িত এলাকার প্রায় ৬ হাজার কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এই মুহূর্তে কেবল ফুল চাষের ওপর নির্ভর করা যাবে না। এজন্য ফুলের পাশাপাশি একই খেতে কম বয়সি সাথী ও মিশ্র সবজি চাষ করা হচ্ছে। আমরা কৃষকদের বীজ ও চারা দিয়ে সহায়তা করছি। টমেটো চাষে কৃষকরা এরই মধ্যে ভালো লাভ পেয়েছেন। খুব শিগিগরই পেঁয়াজ উঠবে। তাতেও তারা লাভবান হবেন।