রংপুরের ফুটবলকন্যারা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:০৮

নারী ফুটবলের গ্রাম হিসেবে পরিচিত রংপুর সদরের নয়াপুকুর হাট। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ফুটবলকন্যাদের কঠোর অনুশীলন। নিজেদের তৈরি করছে। ফুটবলার পরিচয়ে উঠে আসতে চায় সামনের কাতারে। সমাজের অবহেলা, দারিদ্র্যতা, কিংবা বাঁকা চোখ কিছুই থামাতে পারেনি আগামী দিনের খেলোয়াড়দের প্রতিভার স্ফুরণ। তারা জানায়, তাদের পৃষ্টপোষকতার অভাব আর খেলার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত না থাকায় হতাশা আছে নারী ফুটবলারদের মধ্যে। তারপরও পরিশ্রম করতে দ্বিধা নেই।

রংপুর মহানগরী থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে সদ্যপুস্করণী ইউনিয়নের পালিচড়ার নয়াপুকুরে ফুটবলকন্যাদের গ্রাম। ৩০ জন কিশোরী ফুটবল দলের অনেকেই ভালো খেলে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামও কুড়িয়েছে। জেলা সদরের নিভৃত পল্লি থেকে জাতীয় নারী ফুটবল দলসহ বয়সভিত্তিক দল ও বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন স্বপ্না, রত্না, সুলতানা, রুনা, রুমি, বৃষ্টি, রিতা, সুমাইয়া ও শাপলাসহ অনেকেই। এদের মধ্যে নাছরিন আক্তার, রুনা আক্তার ও শাপলা আক্তার অনূর্ধ্ব-১২ জাতীয় দলে রয়েছেন। তারা জানায়, পৃষ্টপোষকতার অভাব আর খেলার সরঞ্জাম না থাকায় কষ্ট আছে তাদের মধ্যে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে হয়তো নিজেদের ফুটবলের আরো বড় মঞ্চে প্রবেশ করা যাবে। ফুটবলকে সঙ্গী করে সমাজে চলতে হলে নানা বাঁধা আসে। কিছুই থামাতে পারেনি, এমনটাই বললেন এই ফুটবলকন্যাদের অভিভাবকরাও।

ফুটবলকন্যারা শুরু থেকেই অনেক সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে এই কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন স্থানীয় প্রশিক্ষক এফসি উত্তরবঙ্গ ফুটবল দলের প্রধান কোচ মিলন মিয়া। জাতীয় পর্যায়ে ভালো খেলে রংপুরের নাম ছড়িয়েছেন। আলোকিত করেছেন বাংলাদেশেকে। এখন শুধু প্রয়োজন পৃষ্টপোষকতার।

রংপুরের জেলাপ্রশাসক আসিফ আহসান জানান, রংপুরের নারী ফুটবল দলের অনেকেই ভালো খেলে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামও কুড়িয়েছে। জেলা সদরের নিভৃত পল্লী থেকে জাতীয় নারী ফুটবল দলসহ বয়সভিত্তিক দল ও বিভিন্ন ক্লাবেও খেলছে। তাদের ফুটবল খেলার জন্য নির্দিষ্ট মাঠ, ফুটবল আর্থিক সহায়তা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।