স্বল্পকাল স্থায়ী ডায়রিয়াও ঘন ঘন হলে সেটি মানবদেহের, বিশেষ করে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদে অপুষ্টির সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর ক্ষতিকর প্রভাব হিসেবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তাদের বোধশক্তিরও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিজোরি অঙ্গরাজ্যের সেইন্ট লুইসে অবস্থিত ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের একদল গবেষক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখিয়েছেন, ডায়রিয়ার কারণ হিসেবে পরিচিত ব্যাকটেরিয়া ‘এসরেসিয়া কোলাই’ (ই কোলাই) এমন এক বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) তৈরি করে যা মানুষের পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। গবেষক দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনফেকশাস ডিজিজেস এবং মলিকিউলার মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক জেমস এম ফ্লেকেনস্টেইন এবং একই বিভাগের বাংলাদেশি পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ড. আলাউল্লাহ শেখ।
গবেষণায় দেখা গেছে, ই কোলাইয়ের টক্সিন পরিপাকতন্ত্রের কোষে জিনের অভিব্যক্তি বদলে দেয় এবং এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন তৈরিতে কোষগুলোকে উদ্বুদ্ধ করে। পরবর্তী পর্যায়ে এই প্রোটিনের সহায়তা নিয়ে ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া নিজেকে অন্ত্রের বাইরের স্তরের সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফ্লেকেনস্টাইন এবং ডক্টর আলাউল্লাহ শেখ বলেন, ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া যে টক্সিনটি উত্পাদন করে তার নাম হিট ল্যাবাইল টক্সিন। এর কারণে অন্ত্রের কোষের আয়ন চ্যানেলগুলো উন্মুক্ত হয়ে পানির নিঃসারণ বেড়ে যায়। যার ফলে ডায়রিয়া দেখা দেয়। তারা আরো বলেন, ‘যদিও ই কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে উত্পন্ন টক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাবের পূর্ণ চিত্র এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি, তবে এই গবেষণা থেকে এটুকু নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই টক্সিন পরিপাকতন্ত্রের আবরণকে বদলে ফেলে।’
গবেষকরা বলেন, সত্তরের দশকে ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি আবিষ্কারের পর বিশ্বব্যাপী ডায়রিয়ায় মৃত্যুর হার আগের তুলনায় আশি ভাগের বেশি কমে গেছে। ওর স্যালাইন ডায়রিয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করলেও এটি ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার কমাতে সহায়তা করে না। সারাবিশ্বে শিশুরা বছরে গড়ে তিনবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত শিশুদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিজেদের গবেষণা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফ্লেকেনস্টেইন ও ডক্টর আলাউল্লাহ শেখ বলেন, আমরা এখনো জানতে পারিনি হিট ল্যাবাইল টক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাব সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে কত দিন স্থায়ী হয় এবং এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব কী। তবে এর ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশের (অন্ত্রের) ক্ষতি হয়। যার ফল হিসেবে শরীরের পুষ্টি গ্রহণ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। হিট ল্যাবাইল টক্সিনের সঙ্গে ডায়রিয়ার যোগসূত্র ছাড়াও আমরা এই টক্সিনের অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাব উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কেমন সেটা জানতে কাজ করছি।
সূত্র :হিন্দুস্তান টাইমস।
