স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে মান্দায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৮

নওগাঁর মান্দায় স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে নুরুন্নাহার (১৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। নুরুন্নাহার উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কাঁশোপাড়া গ্রামের সামছুর রহমানের মেয়ে। 

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মকলেছুর রহমান প্রেমের ফাঁদে ফেলে কাঁশোপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী নুরুন্নাহারকে গোপনে বিয়ে করে। কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় গোপন বিয়ের কাবিননামা করা হয়নি। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো মকলেছুর। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর মকলেছুরের প্রথম স্ত্রী জুলেখা খাতুন মুক্তি হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে রাজশাহী মেডিক্যালে কয়েক দিনের চিকিত্সায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন মুক্তি।              এদিকে নুরুন্নাহার স্বামীর স্বীকৃতিসহ শ্বশুরবাড়িতে তাকে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে মকলেছুর তা এড়িয়ে যায়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে গোপন বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মকলেছুর। এর জের ধরে গত ৬ ডিসেম্বর সকালে মোবাইলফোনে উভয়ের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নুরুন্নাহার। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। নুরুন্নাহারের ভাই আবদুল মালেক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর গত ১০ ডিসেম্বর নুরুন্নাহারের অপারেশন করা হয়। এরপর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। এ অবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে মারা যায় নুরুন্নাহার।

ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে কথিত স্বামী মকলেছুর রহমান। তার পরিবারের লোকজনও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মকলেছুরের মা মাকসুদা বিবি জানান, ‘মকলেছুর প্রেম করে নুরুন্নাহারকে গোপনে বিয়ে করেছে বলে গ্রামবাসীর মুখে শুনেছি। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’

মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নুরুন্নাহারের বাবা সামছুর রহমান বাদী হয়ে মকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।