তিন মামলায় জামিন সাংবাদিক কাজলের

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:১৬

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় অবশেষে স্থায়ী জামিন পেয়েছেন ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। কামরাঙ্গীর চর ও হাজারীবাগ থানায় দায়েরকৃত মামলায় জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল ঘোষণা করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিকে বিশেষ আইনের মামলায় দেওয়া নির্দেশনাসমূহ তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিপালন না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত আইনের বিধিসমূহ প্রতিপালনের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। এর আগে ২৪ নভেম্বর শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় কাজলকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। এ নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিন মামলায় জামিন পাওয়ায় সাংবাদিক কাজলের মুক্তিতে আইনগত বাধা থাকল না বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে নিয়ে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর। পরে ১০ ও ১১ মার্চ হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কাজলের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা করা হয়। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গত ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিজিবি। এসব মামলায় কারাগারে আছেন কাজল। নিম্ন আদালত জামিন না দিলে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। ঐ আবেদনের শুনানি নিয়ে জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে আদালত। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যেতির্ময় বড়ুয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করে।

তদন্ত কর্মকর্তাকে ক্ষমা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে তদন্ত কর্মকর্তা আরো ১৫ দিন সময় চেয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবে—আইনের এই বিধান প্রতিপালন না করায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির রাসেল মোল্লাকে তলব করে হাইকোর্ট। গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি না আসায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির হতে বলা হয়। সেই মোতাবেক তিনি হাজির হন। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, এই তদন্ত কর্মকর্তা বেশি দক্ষ নন। এটা ওনার অজ্ঞতার কারণে হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলে, কোন কোন বিষয়ে মিডিয়ায় ঢাকঢোল পেটাবেন কিন্তু তদন্তে সেটা প্রতিফলিত না হওয়াটা দুঃখজনক। সাইবার ট্রাইব্যুনালও বলেছে যে তদন্ত কর্মকর্তা কোনো সময় বৃদ্ধির আবেদন করেননি। কাজলের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ৭৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক কাজলকে আটক রাখা হয়েছে। তিনি জামিন চান। এরপরই আদালত জামিন মঞ্জুর করে। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম। কোর্টকে কোর্টের মতো মনে করবেন। নইলে আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হবেন।