বরিশালের হিজলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৫শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার আসামিরা সকলেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।
বৃহস্পতিবার বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদার।
ওসি জানিয়েছেন, ৫০ জনের নাম উল্লেখ এবং সাড়ে ৪শ’ জনকে অজ্ঞাত করে মামলাটি দায়ের করেছেন থানার এসআই ফারুক খান।
মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। ঐ ঘটনায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আওয়ামী লীগের উভয়পক্ষকেই আসামি করেছে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লোকমান সিকদার, কাজল হোসেন রাঢী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীরসহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বড়জালিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি বশির আহম্মেদ, ছাত্রলীগ নেতা জিদান হাওলাদার, যুবলীগ নেতা নিজাম সরদার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালীর অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোলায়মান হোসেন শান্ত খুন্না গোবিন্দপুর এলাকা অতিক্রমের সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভিরসহ তার দলবল হামলা চালায়। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি আহতের খবর ছড়িয়ে পরলে হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালীর অনুসারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জড়ো হয়।
অপর গ্রুপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও উভয় গ্রুপের অনুসারীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। এসময় ৮/১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৫ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। এসময় উভয় পক্ষের হামলায় হিজলা থানার ওসি তদন্ত তরিকুল ইসলাম তারেকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
