এখন মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হবে। কিন্তু তার সঙ্গেই কি মার্কিন রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ থেকে বিদায়ি প্রেসিডেন্টের প্রস্থান ঘটবে? কিছু বিশ্লেষক বলছেন, হয়তো না। ট্রাম্প এত সহজে রাজনীতি ছাড়বেন বলে তারা মনে করেন না।
মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে পিটার বেকার ও ম্যাগি হেবারম্যান লিখেছেন, হয়তো দেখা যেতে পারে ট্রাম্পের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি। বিবিসি এক বিশ্লেষণে এ ব্যাপারে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে।
আবার কারো কারো মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের মনে নেতিবাচক ভাবমূর্তি ট্রাম্প তৈরি করেছেন তা কাটিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা তার পক্ষে কঠিন হবে। অনেকে বলছেন, হয়তো ট্রাম্প মার্কিন রাজনীতিতে একটি জোরালো শক্তি হিসেবে রয়ে যেতে পারেন। এমন ধারণার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৭ কোটির কাছাকাছি ভোটারের ভোট পেয়েছেন—যা ২০১৬ সালে তিনি যে ভোট পেয়েছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি। প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর অর্থ হলো চার বছর ধরে তাকে নিয়ে নানারকম কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিপর্যয়, অভিশংসন, করোনা ভাইরাস—এই সবকিছু সত্ত্বেও তার পক্ষে আছে আমেরিকান জনগণের প্রায় অর্ধেকের সমর্থন।
নিকট অতীতে এক মেয়াদ পরই ভোটে হেরেছিলেন এমন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট জিমি কার্টার এবং রিপাবলিক জর্জ এইচ বুশ সিনিয়র। তাদের কারোরই ভোটের সংখ্যার বিচারে ট্রাম্পের মতো ক্ষমতার ভিত্তি ছিল না। ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের একটি টিভি নেটওয়ার্ক চালু করার কথা বলেছেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে ফক্স নিউজের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া। তাছাড়া ২০২৪ সালে আবার প্রার্থী হবার আভাসও দিয়েছেন তিনি, যদিও তখন তার বয়স হবে ৭৮।
আর নির্বাচনে তিনি যদি আবার প্রার্থী না-ও হন, তাহলেও টুইটারে তার ৮৮ মিলিয়ন ফলোয়ার তো আছেন। ফলে এমন হতে পারে যে, আমেরিকার দক্ষিণপন্থিদের মধ্যে তিনি হয়ে উঠতে পারেন অত্যন্ত প্রভাবশালী কণ্ঠ। হয়তো এ কারণেই রিপাবলিকান মহলে পরবর্তী তারকা কে বা কারা হবেন—তা নির্ধারণে ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হয়তো এটা মাথায় রেখেই ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পরপর সাবেক অ্যারিজোনা সিনেটর জেফ ফ্লেক বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের ফল থেকে এটা পরিষ্কার যে, ট্রাম্পের বিপুল জনসমর্থন আছে এবং তার এখনই মঞ্চ ছেড়ে যাবার কোনো ইচ্ছে নেই।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
