খাগড়াছড়ির বহুল চাঞ্চল্যকর প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার ৫৯ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করলো।
আজ শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ির কোর্ট পরিদর্শক আব্দুল জব্বারের মাধ্যমে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(তদন্ত) মো. গোলাম আফছার।
অভিযোগপত্রে সাইফুল আসলাম (৩) ও ওমর ফারুক (২৪) নামে দুই আসামীকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
এদিকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজ সাংবাদিকদের জানান, ‘মামলায় আসামিরা অজ্ঞাত হলেও পুলিশ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত ৯ আসামিকে চিহিৃত করে ৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অপর দুই আসামিকেও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। ডাকাতির মামলাটি এখনো তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ৯ জন খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বলপাইয়া আদাম এলাকায় বিন্দু লাল চাকমার বাড়িতে ডাকাতির নামে তাণ্ডবলীলা চালায়। ৯ সদস্যের ডাকাত দলের সদস্যরা একটি কক্ষে নিয়ে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে ও ডাকাতি করে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ধর্ষিতার মা ঘটনার পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে ৯ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করেন।
পুলিশ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের চিহিৃত করে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেলার রামগড়ের মো. আমিন ওরফে নুরুল আমিন (৪০), রামগড়ের দারোগা পাড়া থেকে মো. অন্তর, জেলা সদরের কুমিল্লা টিলার মো. বেলাল হোসেন (২৩), গুইমারার বড় পিলাকের মো. ইকবাল হোসেন (২১) ও মো. শাহীন মিয়া (১৯), মাটিরাঙার আদর্শ গ্রামের মো. আব্দুল হালিম (২৮) এবং মুসলিম পাড়ার মো. আব্দুর রশীদকে গ্রেফতার করে ও ডাকাতির মালামালসহ ডাকাতির সময় ব্যবহৃত সিএনজি অটো রিকশাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ৭ আসামির মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
ইত্তেফাক/বিএএফ
