পৃথিবীর সেরা দেশ আমার বাংলাদেশ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৪

৮৫তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশবরেণ্য নাট্যকার, লেখক মমতাজউদদীন আহমদ তাঁর ৮৫তম জন্মদিনে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি ধূলিকনা আমার। মসজিদ, মন্দির, গির্জা মঠ সব আমার। পৃথিবীর সেরা দেশ আমার বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লেগেছে,। অভিভূত হয়ে গেলাম। প্রচণ্ড হতাশ হয়ে গিয়েছি। চিন্তা করতে পারি না, পড়তে পারি না, ভাবতে পারি না। ঘরভর্তি বই স্পর্শ করতে পারি না। ৪৪ বছরের নিয়ম ডায়েরিও লিখতে পারি না। এমনকি নিজের হাতে খেতেও পারি না। শিশুর মতো হয়ে গেছি আমি।

মমতাজউদদীন আহমেদ একুশের সৈনিক, স্বাধীনতার সৈনিক। ভাষা, কণ্ঠ, লেখনি, নাটক, মঞ্চ, ছোটপর্দা, বড়পর্দার মধ্য দিয়ে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বাঙালির চেতনা। প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে গেছেন তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে। শিক্ষকতার মতো মহান পেশার মধ্য দিয়ে জাতি গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। সবার প্রিয় মমতাজ স্যার ৮৪ বছর অতিক্রম করে ৮৫ এ পদার্পণ করেছেন। এই আনন্দঘন মুহূর্ত উদযাপনে দেশের সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্টজনের এক মিলনমেলা বসে। সকলে মিলে প্রিয় মমতাজউদদীন স্যারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ এর ৮৫তম জন্মদিনের আনন্দ আয়োজন হয়। অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ ৮৫তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় পর্ষদ এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরার কণ্ঠে নজরুলের ‘অঞ্জলি লহো মোর’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনের শুরু হয়। এরপর মমতাজউদদীন আহমদকে নানা উপহারে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মমতাজউদদীন আহমেদকে নিয়ে কথা বলেন: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, নাট্যজন ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নওয়াজীশ আলী খান, মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব)। সভাপতিত্ব করেন জন্মদিন উদযাপন জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড. নীলুফার বানু।

অনুষ্ঠানে তাকে চাদর পরিয়ে দেন নাট্যজন ড. ইনামুল হক। জন্মদিন উপলক্ষে ক্রেস্ট প্রদান করেন আয়োজনের সভাপতি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। মমতাজউদদীন আহমেদকে তার একটি প্রতিকৃতি হাতে তুলে দেন শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী ও আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার। অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী মমতাজউদদীন আহমদ এর শংসাবচন পাঠ করেন।

মমতাজউদদীন আহমদ এর জ্যেষ্ঠ পুত্র ডা. তিতাস মাহমুদ প্রতিবছর একজন নাট্যকর্মীকে মমতাজউদদীন আহমদ নামাঙ্কিত একটি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন যার আর্থিক মূল্য এক লাখ টাকা। কামাল লোহানী বলেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়। সেই বন্ধুত্ব আজও বজায় আছে ও অক্ষুণ্ন রয়েছে। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সেই ৭২ সালের দিকে মমতাজ স্যার বলেছিলেন, একটা মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। সেই লড়াইয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে আজও আছেন।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, তিনি একজন নাটক পাগল মানুষ। নাটক নিয়ে তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি। তিনি যখন যেখানে থাকেন জমিয়ে রাখেন। মামুনুর রশীদ বলেন, বয়স বিচারে নয় কাজের বিচারে তিনি আজও তরুণ। হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, মমতাজউদদীন আহমদ মনীষী পর্যায়ের মানুষ। তাকে পাঠ করাই হবে তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন।

অনুষ্ঠানে মমতাজউদদীন আহমদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় আওয়ামী লীগ, বাংলা একাডেমি, এনসিটিবি, আইন কমিশন, সুবচন, সময় নাট্যদল, পথনাটক পরিষদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ বাংলা বিভাগের প্রাক্তনী, থিয়েটার, আরটিভি, আরণ্যক নাট্যদল, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, চন্দ্রকলা থিয়েটার, রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠী, শিশু সংগঠন ঐক্যজোট, স্বনন, পদাতিক নাট্যদল, খেয়ালী নাট্যগোষ্ঠী, লিটল ম্যাগাজিন চর্যাপদ, স্মার্ট সিটি মুভমেন্ট, ভোলাহাট উপজেলা সমিতি, মৈত্রী থিয়েটার, বহ্নিশিখা, শূন্যন রেপার্টোরি থিয়েটার, অন্বেষা প্রকাশন, দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ, আদি গম্ভীরা দল, উই নট আই, বাংলা ভাষা শিক্ষক পর্ষদসহ আরও অনেকে।