রফিকুল ইসলাম রবি
যারা ভিড় পছন্দ করেন না, তারা সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে। আবার অনেকে এসেছেন দুপুরের পর। তবে বিকালে লোকজনের ঢেউ নামে মেলার দিকে। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় লোকে লোকারণ্য হয় মেলা প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যার পর মেলার মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বেচাকেনাও হয়েছে ভালো। গতকাল ছিল ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার দশম দিন। যারা গত শুক্রবার আসেননি, তারা গতকাল এসেছেন মেলার মাঠে।
তবে গতকাল মেলায় আসা-যাওয়ার পথে বেগ পেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। এদিকে, খামারবাড়ি থেকে মানুষের ঢল নামে মেলার দিকে। কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং তালতলা থেকেও হেঁটে মেলায় পৌঁছাতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের রাস্তা থেকে বাণিজ্য মেলার মূল ফটকের দূরত্ব হাঁটার রাস্তা মাত্র পাঁচ মিনিটের। তবে গতকাল সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে মেলায় প্রবেশ করতে সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় আসা দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণ যেমনি ঘুরে দেখছেন, তেমনি আবার বেশ কেনাকাটাও করছেন। সবধরনের প্যাভিলিয়ন, স্টল এবং রেস্টুরেন্টে ছিল ভিড়। বেচাবিক্রির চাপে দোকানিদের দম ফেলার সময় ছিল না। বিক্রেতারা জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বাড়বে, এটা জেনে আমরা প্রস্তুত থাকি। যতই দিন বাড়বে, ততই মেলায় বেচা-কেনা বাড়বে।
ভিড় ঠেলে মেলায় পৌঁছতে, পছন্দের পণ্য কেনাকাটা করতে ভোগান্তিও হয়েছে বলে জানান অনেকে। তারা বলছেন, রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্ক করে রাখার কারণে মেলার মূল ফটকে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে। আবার মেলা থেকে বেরিয়ে বাসায় পৌঁছাতেও ছিল ভোগান্তি।
জনসমুদ্রের মাঝেই মেলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। সঙ্গে চার বছরের সন্তান, ভাই, মা ও ভাবিকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সাবিনা। ভিড়ের কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দূর থেকে হেঁটেই মেলায় প্রবেশ করেন তিনি। কর্মজীবী এই নারী জানান, কর্মদিবসগুলোয় পরিবারের সবাইকে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করতে মেলায় এসেছি।
