ঘিওরে ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ
মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীর খননকৃত বালু কৃষি জমিতে ফেলার ফলে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কৃষকরা। গতকাল মানিকগঞ্জ-ঘিওর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী। খননকৃত বালু ফাঁকা জায়গায় রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা না করে কৃষিজমির পাশে রাখা হয়। গত দুইদিন যাবত্ রাতের আঁধারে নদী থেকে উচ্চমাত্রার খননযন্ত্র দিয়ে বালু ফেলার ফলে বাঁধ ভেঙে বালুমিশ্রিত পানিতে কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে গেছে। ফলে বিস্তীর্ণ আবাদি জমির পেঁয়াজ, সরিষা, আলুসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও নদী থেকে তোলা বালু ফেলার পাইপ সড়কের ওপরে বসানোর ফলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সকালে ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের দাবি, কৃষিজমিতে বালু ফেলা বন্ধ এবং সড়কের রাখা পাইপ লাইন উঠিয়ে ফেলাসহ কৃষকদের জমির পরিবর্তে খাস জমিতে বালু ফেলতে হবে।
ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, নদী খননে তাদের উপকারের চেয়ে এখন অপকারই হচ্ছে বেশি। খোদ স্থানীয় প্রশাসনও স্বীকার করেছে, নদীভাঙন ও কৃষকদের ক্ষতির কথা। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পূর্বঘিওর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে বালু তুলে তা প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে কয়েক একর ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট স্থান ছাড়িয়ে বালু ও পানি আশপাশের কৃষিজমিতে গিয়ে পড়ছে। ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। এ সব বালু ও তার সঙ্গে আসা পানিতে পার্শ্ববর্তী ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই জমির আবাদকৃত সরিষা,আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক।
জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় জেলা সদরের পুটাইল থেকে ঘিওর উপজেলা সদর পর্যন্ত কালীগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। ১৯ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ঘিওর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ঘিওর পূর্বপাড়া কবরস্থান ও আশপাশের কৃষিজমিতে বালু ছড়িয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী কৃষকরা বাধা দিলে সেখানে বালু ফেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘিওর থানার ওসি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পরে পুলিশ এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে এনে পাইপসহ কাঠের গুঁড়ি সরিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি।’
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা কে বা কারা রাতের আঁধারে বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। তারা এলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্ষতি পূরণ না দেওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বারবার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ এবং ঠিকাদারের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দ্রুত কৃষকদের ক্ষতি পূরণের পাশাপাশি নদী খনন বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।
