জান-ই-আলম
পাঁচ দিন আগে প্রাণপ্রিয় পিতাকে হারিয়েছিলেন শহীদুল ইসলাম। খেলতে পারেননি প্রথম কোয়ালিফায়ার। পিতৃশোককে বুকে ধারণ করেই ফিরে এসেছেন ২২ গজে। বেদনার্ত হূদয় নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে হাজির হন ডানহাতি এই পেসার। গতকাল ম্যাচের শেষ ওভারে শহীদুলের দুরন্ত বোলিংয়েই বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের শিরোপা জিতল জেমকন খুলনা। ফাইনালে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় খুলনা।
ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-২০ টুর্নামেন্টে খুলনার এটি প্রথম ট্রফি জয়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন। মাশরাফি বিন মুর্তজার মুকুটে যোগ হলো পঞ্চম টি-২০ ট্রফি। টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক দল চট্টগ্রাম ফিরল ট্রফি ছাড়াই। অন্যদিকে অভিজ্ঞতার মূল্য পেল খুলনা।
গতকাল ম্যাচের শেষ ওভারে ১৬ রান দরকার ছিল চট্টগ্রামের। টি-২০’র এই যুগে সেটি খুব বড় টার্গেট ছিল না। কিন্তু শোকার্ত শহীদুল হাজির হন জাদুময় বোলিং নিয়ে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সৈকত আলীর উইকেট নিয়েছেন এবং ১০ রানের বেশি দেননি শহীদুল। তাতেই অসাধারণ জয়ে শিরোপার উত্সবে মাতে খুলনা।
টসে হেরে ব্যাট করা খুলনা ৭ উইকেটে ১৫৫ রানের জুটি গড়েছিল অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরিতে। জবাবে সৈকত আলীর হাফ সেঞ্চুরির পরও ৬ উইকেটে ১৫০ রানের বেশি যেতে পারেনি চট্টগ্রাম। মাহমুদউল্লাহ ম্যাচ সেরা হন। খুলনা শিরোপা জিতলেও টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামের এই পেসার ২২ উইকেট নিয়েছেন। টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন লিটন দাস। ৩৯৩ রান করেছেন তিনি।
বিশেষ পারফরম্যান্স পুরস্কার পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, পারভেজ হোসেন ইমন, শরীফুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম রবি।
রান তাড়ার মিশনে চট্টগ্রাম সুবিধা করতে পারেনি। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। সৌম্য ১২, অধিনায়ক মিঠুন ৭ রান করেন। ব্যাটিংয়ে বড় ভরসা লিটন ২৩ রান করে রানআউট হন। চতুর্থ উইকেটে শামসুর-সৈকত আলীর ৪৫ রানের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। শামসুর ২৩ রান করে আউট হন। একপ্রান্ত আগলে সৈকত আলী হাফ সেঞ্চুরি করেন। শেষদিকে মোসাদ্দেককে নিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু রান-বলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় শেষ রক্ষা হয়নি। শহীদুলের শেষ ওভারে চট্টগ্রামের ট্রফির আশা তিমিরে হারায়। সৈকত আলী ৫৩, মোসাদ্দেক ১৯ রান করেন। শহীদুল দুটি উইকেট নেন। এর আগে ইনিংসের প্রথম বলেই জহুরুলকে (০) ফিরিয়ে খুলনাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন নাহিদুল। ইমরুল ৮, জাকির হাসান ২৫ রান করে ফিরলে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। তারপর থেকে সতীর্থদের নিয়ে ইনিংসটা টেনে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় খুলনা। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত থেকে ৪৮ বলে অপরাজিত ৭০ রানের (৮ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। শুভাগত ১৫ রান করেন। চট্টগ্রামের নাহিদুল, শরীফুল ২টি করে, মোসাদ্দেক-মুস্তাফিজ ১টি করে উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা: ২০ ওভারে ১৫৫/৭
চট্টগ্রাম: ২০ ওভারে ১৫০/৬
ফল: খুলনা ৫ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
টুর্নামেন্ট সেরা: মুস্তাফিজুর রহমান
