স্পোর্টস রিপোর্টার
দেশের ফুটবলে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। বিশেষ করে পেশাদার ফুটবলের যুগে পা দেওয়ার পর খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি নির্ধারিত সময়ে। এমন ঘটনা বিরল। ১ নভেম্বও থেকে ১৫ ডিসেম্বর ছিল রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে মিল রেখে দলবদলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যদি একই সঙ্গে বিদেশি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম থেকে থাকে। পেশাদার ফুটবল লিগের সব ক্লাবই নিয়মের প্রতি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। শুধু ব্রাদার্স ইউনিয়ন দুই দিন পর ১৭ ডিসেম্বর কাগজপত্র বাফুফেতে পাঠায়। যেটা সম্পূর্ণ নিয়মের বাইরে। নিয়ম ভেঙে ব্রাদার্স নিজেরাই বিপদ ডেকে এনেছে। বাফুফে বলছে, ব্রাদার্স যেটা করেছে সেটা নজিরবিহীন এক কাণ্ড। তারা ব্রাদার্সের কাগজপত্র প্লেয়ারর্স স্ট্যাটাস কমিটির কাছে প্রেরণ করবে, সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। তার আগে রেজিস্ট্রেশন হবে না।
ব্রাদার্সের বিষয়টি নিয়ে যে কোনো সময় বৈঠকে বসবে প্লেয়ারর্স স্ট্যাটাস। ব্যাখ্যা জানতে চাইবে। যদি গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে না পারে, তাহলে ব্রাদার্সের ভাগ্যে কী ঘটবে তা বলা কঠিন। তবে আশঙ্কা করা হয়, ফেডারেশন কাপ খেলা তো দূরের কথা, প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে পারবে কি না। যদি এটাই হয় তাহলে ব্রাদার্সকে আগামী বছর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলতে হবে। ততদূর যাবে কি না, এখনই বলা কঠিন।
ফুটবল অঙ্গনে গুঞ্জন আছে, অর্থাভাবে ব্রাদার্সের এই দশা। করোনার সময় কমবেশি আর্থিক টানাপোড়েন ছিল সব ক্লাবে। তারাও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ক্লাব ফুটবলটাকে বাঁচিয়ে রাখতে অর্থ সংগ্রহে কষ্ট করেছেন। নিজের ব্যবসার অর্থ, পৃষ্ঠপোষকদের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহ করে যেভাবেই হোক সংকট মুহূর্তে ক্লাব বাঁচিয়েছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা মেলে ধরেছেন। অন্যরা যেটা পারল, ব্রাদার্স ইউনিয়ন কেন পারল না? ব্রাদার্সের ডাইরেক্টর ইনচার্জ মহিউদ্দিন আহমেদ মহির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সাড়া পাওয়া যায়নি। কে এম দাস লেনে মহির বাসার সামনে গিয়ে ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বাফুফের নির্বাচনি প্রচারণায় মহি দেশের ফুটবল উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ভোটাররাও মহিকে ভোট দিয়ে বাফুফের সহসভাপতি নির্বাচিত করলেন। দেশের ফুটবল তো দূরের কথা, তার নিজের ক্লাবই ধুঁকছে।
প্রবল সংকটে থাকা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। অথচ ব্রাদার্স দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দল হয়েও সাংগঠনিক ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে আছে। কত ভালো ভালো ফুটবলার দেশকে উপহার দিয়েছে ব্রাদার্স। সেই দলটি এখন নেতৃত্ব সংকটে ধুঁকছে। সাবেক ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলুর কণ্ঠে কষ্ট, অভিমানের কথাগুলোই শোনা গেল। কমলা জার্সি গায়ে যারা শিরোপা এনে দিয়েছিলেন সেই বাবলুরা এখন নিজের ঘরেই ঠাঁই পান না। আগাখান গোল্ডকাপ, ফেডারেশন কাপ জয় করা সুরভী মাখা সেই বাবলু আক্ষেপ করে বললেন, ‘১০-১৫ বছর ধরে আমরা অনেকেই ব্রাদার্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। কি হয় কিছুই জানি না। আমরা ব্রাদার্সকে জন্ম দিলাম, আমাদের এক কাপ চা খেতেও ডাকা হয় না।’
