করোনাকালের স্থবিরতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাক খাত। লকডাউনের সময় কেনাকাটা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। দোকানভাড়া থেকে শুরু করে কর্মচারীদের বেতন দেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। দুই ঈদেও বিক্রি ছিল শূন্যের কোঠায়। এবারে শীতের প্রকোপ বাড়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। কেনাকাটায়, ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট শপিংমলগুলো। তবে ক্রেতাদের ভিড়ে বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।
এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের পোশাক কিনতে ফুটপাত থেকে শুরু করে রাজধানীর নামিদামি শপিং মলগুলোতেও ছিল লক্ষণীয় ভিড়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, শীতের পোশাক কিনতে ক্রেতার ঢল নেমেছে। রাজধানীর ফুটপাতে ভাসমান দোকানগুলোতে ছিল সব ধরনের ক্রেতার ভিড়।
সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতারা কেউ একা, কেউ পরিবারপরিজন নিয়ে শীতের কাপড় কিনছিলেন। কম দামে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে শাল, সোয়েটার, কান টুপি, হাত মোজা, পা মোজা, ব্লেজার, কম্বলসহ সব ধরনের শীতের কাপড়। ক্রেতারা ঘুরেফিরে দেখেশুনে পছন্দসই বিভিন্ন ধরনের গরম পোশাক কিনেছেন।
গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে কুয়াশাছন্ন আবহাওয়া, হিমেল বাতাস ও শীত একটু বেশি অনুভূত হওয়ায় নগরবাসী শীত মোকাবিলায় গরম পোশাক কিনছেন। আর তাই হাতে হাতে দেখা গেছে শীতের কাপড়ের এক বা একাধিক প্যাকেট। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল, বঙ্গবাজার ও গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
এলিফ্যান্ট রোডের দোকানি মামুন হাসান বলেন, বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই। এত দিনে কিছুটা ঘুরে বসতে শুরু করেছে ব্যবসা। আমাদের দোকানেই কর্মচারী ছিল পাঁচ জন, করোনার কারণে বেচাবিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিক তিন জন কর্মচারীকে বাদ দিয়েছেন। এখন আমরা দুজন মাত্র কর্মচারী আছি।
বসুন্ধরা সিটির শপিংমলে ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ব্লেজার, কোট আর জ্যাকেট। একটি ব্লেজারের দাম সর্বনিম্ন ৩৫০০ টাকা থেকে ৫৫০০ টাকা। একজন ক্রেতা বলছেন, কাল ঢাকার বাইরে কনফারেন্স আছে, আজ রাতেই যেতে হবে, তাই শীতের কাপড় কিনতে আসা। আগের গরম কাপড় আছে, কিন্তু ড্রাই ওয়াস করাতে হবে। সেই ঝামেলা থেকে বাঁচতে আবার গরম কাপড় কিনছি। দোকানের ম্যানেজার ওবায়দুল্লাহ বলেন, শীত বাড়ায় আমাদের ভাগ্য কিছুটা ঘুরতে শুরু করেছে। প্রকৃতিতে শীত বাড়লে আমরা কিছুটা ব্যাবসায়িক সুফল পাব।
ফুটপাতের এক দোকানি বলেন, মাত্র ৩০০ টাকায় শাল বিক্রি করছি। আমাদের দোকান নেই বলে, এত কম দামে দিতে পারছি। এই শাল দামি মার্কেটে ৬০০ টাকায় কিনতে হবে বলে জানান তিনি।
