রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং বিচারকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বিচারকদের খেয়াল রাখতে হবে মামলার রায় হওয়ার পর রায়ের কপি পাওয়ার জন্য বিচারপ্রার্থীদের যেন আদালতের বারান্দায় দিনের পর দিন ঘোরাঘুরি করতে না হয়। তিনি বলেন, আমি নিজে একজন আইনজীবী হিসেবে জানি বিচার কাজ কত কঠিন ও জটিল। বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় একজন বিচারককে কতটা পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু তারপরও আমি বলব মামলার পরিমাণ দিন দিন যে হারে বাড়ছে সেটাকে আয়ত্তের মধ্যে আনতে হলে বিচারকদের আরো বেশি কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, বিরোধের মীমাংসা যথাযথভাবে না হলে আস্থার সংকট সৃষ্টি হবে। আর এই প্রক্রিয়া বারবার চলতে থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বিচার ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করে জনগণের ক্ষোভ প্রশমন করে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। নানা বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন সুসংহত করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। জাতির ক্রান্তিকালে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই সুপ্রিম কোর্ট মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও সংবিধানকে রক্ষা করেছে এবং করে যাচ্ছে। তাই আজকের এই সুপ্রিম কোর্ট দিবসের অনুষ্ঠানে আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি সুপ্রিম কোর্টের সেই সব অকুতোভয় বিচারপতিগণকে যারা বন্দুকের নলের কাছে নতি স্বীকার না করে এবং নিজেদের বিবেককে বিকিয়ে না দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই হচ্ছে বিচারকদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরো সুসংহত করতে ব্যক্তিগত অঙ্গীকার অপরিহার্য। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোভিড ১৯-এর পিক টাইমে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এ সময় বিচারকগণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করে দেশে বিচারকাজ চালু রেখেছেন; যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট দিবস উদ্যাপন সংক্রান্ত জাজেস কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, কোনো ব্যক্তি যাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনকে লঙ্ঘন করতে না পারে, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সেই সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রথম কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছরের এই দিনে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালন করা হয়।
