চট্টগ্রাম মহানগরীর হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিশোধনাগার স্থাপনের তেমন কোনো সাড়া নেই। তিন মাসের সময় দিয়ে গত ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে মহানগরীর ৪৯টি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইটিপি, এসটিপি কিংবা ডব্লিউটিপি স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহকে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণের পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শুরু করেনি কেউই। গত কয়েক মাসে তিন-চারটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণের শুধু নকশা জমা দিয়ে দায় সেরেছে বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম মহানগরী পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী জানান, আগামী ২০ ডিসেম্বর তাদের এ সংক্রান্ত সভায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। দেশে কোভিড-১৯-এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চিকিত্সা ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের প্রতি নজর দেওয়া শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য শোধনাগার নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়। কারণ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। একইভাবে পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রেও হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য শোধনাগার থাকার শর্ত রয়েছে। কিন্তু বিগত সময় পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে নমনীয়তা দেখানো হয়।
হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রতিদিনকার রোগীর বর্জ্য, কাপড়, কাটা-ছেঁড়ার সামগ্রী, কেমিক্যাল, রক্ত, অন্যান্য তরল ও কঠিন বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় নালা-নর্দমায় এগুলো ফেলা হয়। ফলে ঐসব দূষিত ক্যানসার, কোভিড বর্জ্য নালা-নর্দমা দিয়ে পানিবাহিত হয়ে যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ে। যা রোগজীবাণু ছড়ানোর ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো রোগ নিরাময়ের জন্য সুসজ্জিতভাবে নির্মাণ করা হলেও শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না করায় ছোট-বড় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো রোগবিস্তারে অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে। নগরীর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান কাভার্ড ভ্যানে করে কিছু হাসপাতালের কঠিন বর্জ্য নগরীর হালিশহর এলাকার ডাম্পিং ইয়ার্ডে ফেলা হলেও তার কোনো ব্যবস্থাপনা বা ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা না থাকায় কার্যকর সুফল পাওয়া যায় না। চট্টগ্রাম মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একটিতেও বর্জ্য পরিশোধনাগার নেই।
