করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার পর অবশেষে আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে যাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমধাপে অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবং পরবর্তীধাপে অন্যান্য শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু জরুরি সভায় পরীক্ষার ফি কমানো, অনলাইনে অপর্যাপ্ত ক্লাসের রিভিউ ক্লাস নেওয়া, করোনাকালীন সময়ের বিবেচনায় চূড়ান্ত পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়নে শিক্ষকদের মানবিক হওয়া, দ্রুত সময়ে পরীক্ষা হওয়ায় পরীক্ষার সিলেবাস কমানো, পরীক্ষাকালীন সময়ে হল খোলা থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তবে এসকল বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে শিক্ষার্থীর আশ্বস্থ করেছেন, শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
পরীক্ষার ফি কমানোর ব্যাপারে শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে দৈনিক ইত্তেফাককে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের দুঃশ্চিন্তা করার কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় খোলারপর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি তাদের সুবিধামত কমনো হবে।
সিলেবাস কমানোর ব্যাপারে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আমরা সিলেবাস কমাইনি। সিলেবাস কমালে কিংবা অটোপাশ দিলে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে ভিক্টিম হবে। জব সেক্টরগুলোতে আমাদের শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত হবে যে, তারা বিশেষভাবে পাশ করেছে। এ বিষয়ে দুটো উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান সবাইকে অটোপাশ দিয়েছিলেন এবং ১৯৭২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৪ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে, চাকরির ক্ষেত্রে তারা ভিক্টিম হয়েছিল। অতীতের এসব বিষয় বিবেচনায়, শিক্ষার্থীদের সিলেবাস কমানো হয়নি। তবে, আমরা আগে যেখানে ৭০ নম্বরের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ৫টা প্রশ্ন লিখতে হতো এবার তারা সেখানে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা ৩টা প্রশ্ন লিখবে। এবং, এ ৫০ নম্বরকে ৭০ নম্বরে কনভার্ট করা হবে।
হল খোলার ব্যাপারে তিনি বলেন, পরীক্ষার সময়ে হল খুলতে হলে সরাসরি সরকারের অনুমতির প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন হল খোলার ব্যাপারে আমাদের কোন প্রকার অনুমতি দেইনি। তবুও, ঝুঁকি নিয়েই আমরা মেয়েদের হল খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রিভিউ ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোন বিভাগের শিক্ষার্থীরা যদি রিভিউ ক্লাসের প্রয়োজন মনে করেন। তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে রিভিউ ক্লাস করতে পারেন।
চূড়ান্ত পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়নের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করে শাবিপ্রবির ভিসি বলেন, টার্মটেস্ট এবং ক্লাস এটেনডেন্সের নম্বর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকরা যেমন মানবিক হয়েছেন। চূড়ান্ত পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়নেও তেমনিভাবে শিক্ষকরা মানবিক হবেন। একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে এ বিষয়ে শিক্ষকদের বলা হয়েছে। পরবরর্তীতে, আমি শিক্ষকদের আবারো বলবো। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক হওয়ার জন্য শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে বলেন, শাবিপ্রবির উপাচার্য।
ইত্তেফাক/কেকে
