বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আকাশ ভেঙে পড়ে জেমকন খুলনার খেলোয়াড় শহিদুল ইসলামের মাথায়। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচের আগে বাবার মৃত্যু সংবাদ পান এই পেসার। শহিদুল চলে যান নারায়ণগঞ্জে; সেখানে বাবার দাফন শেষে পরদিন হোটেলে ফিরে আসেন। করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিন দিন আইসোলেশনে থাকার পর ফাইনালও খেললেন তিনি।
বাবাকে হারানোর শোকটা ফাইনালের দিন শক্তিতে পরিণত করেন শহিদুল। শেষ ওভারে গড়ে দিলেন ম্যাচের ভাগ্য। দুর্দান্ত পারফর্ম করে খুলনাকে জেতালেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা। শেষ ওভারে ১৫ রানের পুঁজি আগলে রাখেন এই পেসার। পরপর দুই বলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সৈকত আলিয়ে ফিরিয়ে শহিদুল হয়ে গেছেন শেষের নায়ক। ফাইনালে চার ওভারে ৩৩ রান দিয়েছেন তিনি।
ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে জেমকন খুলনার প্রতিনিধি হয়ে আসেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা শহিদুলের বাবার জন্য খেলেছি। তিনি পাঁচ দিন আগে মারা গেছেন। আমাদের অধিনায়ক (মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ) বলেছেন, আমরা শহিদুলের বাবার জন্য খেলবো।’
মাশরাফি যোগ করেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার কারণে শহিদুল বাড়িতে গিয়েছিল এবং হোটেলে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে ছিল। করোনাভারইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়ে ম্যাচ খেলেছে সে। আমরা শুধু তার জন্য খেলেছি। আল্লাহকে ধন্যবাদ, আমরা তার জন্য জয় এনে দিতে পেরেছি।’ জেমকন খুলনা ও ছেলের এই জয় দেখতে চেয়েছিলেন শহিদুলের বাবাও। কিন্তু ছেলের গৌরবটা দেখা হলো না তার।
শুধু ফাইনাল নয়, টুর্নামেন্টজুড়ে বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন শহিদুল। আসরে খুলনার সবচেয়ে সফল বোলার তিনিই। আট ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার। তবে খুলনার সবচেয়ে সফল হলেও আসরের সেরা পঞ্চম বোলার হয়েছেন শহিদুল।
ইত্তেফাক/টিআর
