কোনো উদ্ভিদের রোগ নিরাময় ক্ষমতা থাকলে তাকে ‘ভেষজ উদ্ভিদ’ বলে। যেমন নিমগাছ। খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ৪০০ সালে বৈদিক যুগে নিম জীবাণু ধ্বংসকারী হিসেবে প্রয়োগ হতো। ক্ষয় রোগ, কৃমি প্রভৃতি রোগে নিমের উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। দূষিত বায়ু বা অন্য কোনো কীটের উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে এর ভূমিকা আছে।
চার-পাঁচ গ্রাম নিমের ছাল এক কাপ গরম জলে রাতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়। চুলকানি বা শরীর সর্বদা চুলকায়—সেক্ষেত্রে শুকনা নিমপাতা তেলে ভেজে ভাতের সঙ্গে খেলে সপ্তাহ পর এ অসুবিধা থাকে না। গুঁড়ো কৃমি রোধে পাঁচ-সাতটি নিমপাতা গুঁড়ো করে খেলে ফল মেলে। রাতকানা রোগে নিমের ফুল ভেজে খেলে উপকার পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের ক্ষত নিমের ছাল জ্বাল দিয়ে কাথ করে খেলে আরোগ্য হয়। বেশি বমি হলে পাঁচ-সাত ফোঁটা নিমপাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বমিভাব থাকে না। যে সমস্ত বহুমূত্র রোগীর গায়ের ঘা সারতে চায় না সেক্ষেত্রে নিমের বাটা দেড় গ্রাম দুধের সঙ্গে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এক গ্রাম নিমের ছাল, আধা গ্রাম কাঁচা হলুদ ও এক গ্রাম আমলকির গুঁড়ো সকালে খালি পেটে খেলে যকৃতের ব্যথা উপশম হয়।
নিমগাছ যে বাড়ির আঙিনায় থাকে, সে বাড়িতে রোগ-বালাই কম থাকে বলে ধারণা করা হয়।
নবীন চৌধুরী
