ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক প্রণোদনা আসছে

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৯

আকার হতে পারে ১০ হাজার কোটি টাকা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কোভিড-১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল জোগান দিতে নতুন একটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের আকার হতে ১০ হাজার কোটি টাকার। এই অর্থ কটেজ ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ হিসেবে বিতরণ করবে। সম্ভাব্য এই তহবিল থেকে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলোকে (এমএফআই) অর্থায়ন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ক্ষুদ্র ঋণসংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন সুবিধা দিতে এর আগে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করা হয়। এ তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদহারে গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকার ৫ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে। প্যাকেজটি বাস্তবায়নের জন্য সময় বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে সিএমএসই খাতে সরকার যে ঋণ প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে, সেখানে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এর মধ্যে সরকার ৫ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে দেবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য, করোনার অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এর আগে সর্বমোট ২১টি খাতে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকে সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে দেওয়ার কথা। নতুন করে আবার সিএমএসই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলে ২২টি খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের মোট আকার দাঁড়াবে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সিএমএসএমই খাতে তিন বছর মেয়াদি যে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ প্রণোদনা বিতরণ হচ্ছে, এর বেশির ভাগই পেয়েছে মাঝারি শিল্প। তাই এ খাতটি বাদে বাকিগুলোকে সহায়তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক, মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলো (এমএফআই)। এতে অর্থায়ন করবে সব তপশিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর গ্রাহক পর্যায়ে অর্থায়ন করবে এমআরএ থেকে সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন প্যাকেজটি অনুমোদনের জন্য আগামী মন্ত্রিপরিষদে তোলা হতে পারে বলে জানা যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ঋণের সীমা হতে পারে ৫০ লাখ টাকা। তবে কটেজ বা কুটির শিল্প পাবে ৫ লাখ টাকা। অতি ক্ষুদ্র শিল্প ঋণ পাবে ১০ লাখ টাকা। আর ক্ষুদ্র শিল্পগুলো সর্বোচ্চ পাবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আড়াই শতাংশ সুদহারে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলোকে অর্থায়ন করবে। ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলো গ্রাহক পর্যায়ে অর্থায়নের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ হারে সুদ নেবে। এর মধ্যে গ্রাহককে দিতে হবে ৯ শতাংশ। বাকি ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করবে। নতুন প্রণোদনায় ঋণ বিতরণে পৃথক একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।