ইত্তেফাক রিপোর্ট
যেসব খাতে উেস কর কর্তন করা হয়, সেখানে বিদ্যমান করের হার কমতে পারে আগামী বাজেটে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ কার্যালয়ে আয়করবিষয়ক এক কর্মশালায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, উেস করের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী বাজেটে এমন ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে কর ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজ করার অংশ হিসেবে অনলাইনে কর প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে আয়কর বিভাগ। এ লক্ষ্যে আগামী বছর রিটার্ন দাখিলে কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
‘রিটার্ন ফরম পূরণ ও আয়কর’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে যৌথভাবে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গোল্ডেন বাংলাদেশ। ইআরএফের সভাপতি শারমিন রিনভি এতে সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালায় আয়করের খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করেন গোন্ডেন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে ইআরএফের সহসভাপতি এম শফিকুল আলমসহ সিনিয়র সদস্যরা বক্তব্য দেন।
আলমগীর হোসেন বলেন, আয়কর আইন, রিটার্ন ও আয়কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ হলে করের আওতা বাড়বে। করদাতাদের মধ্যে প্রাথমিক করভীতি কমবে। করদাতা নিজেই রিটার্ন পূরণ ও জমা দিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে এনবিআরের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী জুনের মধ্যে নতুন আয়কর আইনের একটি ভিত্তি দাঁড়িয়ে যাবে। আইনটি বাংলায় সহজবোধ্যভাবে তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কর ফাঁকি রোধে বিআরটিএসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আয়কর বিভাগের যোগসূত্র স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে। আয়কর রিটার্নকে অনলাইনভিত্তিক করতে গত কয়েক বছর ধরে এনবিআর কাজ করে এলেও এখনো পুরোদমে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়নি। তবে গত এক দশকে আয়কর আদায়, করদাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনবিআরের অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি। এ সময় বক্তারা মাঠ পর্যায়ে করভীতি ও হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে তা নিরসনে এনবিআরকে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কর আদায়সহ এসংক্রান্ত পুরো ব্যবস্থাপনা আরো সহজ ও করদাতাবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে গোল্ডেন বাংলাদেশ প্রকাশিত নতুন পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
