মেহেরপুর প্রতিনিধি
শীতকালীন সবজিতে বাম্পার ফলন হলেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন মেহেরপুরের সবজিচাষিরা। চাষিদের অভিযোগ, উত্পাদন খরচের অর্ধেকও ফিরে পাচ্ছেন না তারা। উত্পাদন খরচ ফিরে পেতে পাইকারি দরে বিক্রি না করে অনেকেই ফেরি করে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ আবার নামমাত্র সংগ্রহ করে জমি চাষ করে ফেলেছেন।
বিশেষ করে পাতাকপি, ফুলকপি, ওল (বিট) কপি, মুলাতে বিঘাপ্রতি ৫-৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মধ্য অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাতাকপি বিক্রি হচ্ছে তিন-চার টাকা কেজি দরে এবং বিঘাপ্রতি ৬-৭ হাজার টাকায়। ফুলকপির অবস্থা আরো খারাপ, বিক্রি হচ্ছে বিঘাপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকায়। ওল (বিট) কপি বিক্রি হচ্ছে তিন-চার টাকা কেজি দরে এবং বিঘাপ্রতি ৭-৮ হাজার টাকায়। মুলা বিক্রি হচ্ছে পাইকারি ৮-১০ টাকা কেজি, শিম বিক্রি হচ্ছে আট টাকা কেজি দরে। মাসখানেক আগেও এর চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এসব সবজি।
বর্তমানে প্রতিদিন মেহেরপুর থেকে অন্তত ১৮ থেকে ২০ ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে। জমি থেকেও সবজি ট্রাক ভরে নিয়ে যাচ্ছে ফড়িয়া সবজি ব্যবসায়ীরা। চাষিদের অভিযোগ, দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সবজি ফলিয়ে খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছেন না তারা।
সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের রিপন আলী জানান, ছয় বিঘা জমিতে পাতাকপি, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি ও এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলাম। প্রতিটি সবজিতে লোকসান হচ্ছে।
সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের সবজিচাষি আমির হোসেন জানান, অন্যের জমি লিজ নিয়ে শিম, ওল কপি ও বেগুন চাষ করেছি। কিন্তু দাম পাচ্ছি না। কাঁচা বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ১০০ চাষির মধ্যে সবজি চাষে পুঁজি খাটিয়েছেন। তারা সবজি বিক্রি করেই টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু সবজির দাম না থাকায় এবার টাকা দাবি করতে পারছেন না। এছাড়াও মোসারেফ হোসেন নামের এক ফড়িয়া জানান, বেশি দামে চাষিদের কাছ থেকে সবজি কিনে রেখেছি। এখন বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাচ্ছি না।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় মেহেরপুরে শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় উত্পাদন বেশি হওয়ায় চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, মেহেরপুর-১ আসনের এমপি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই মেহেরপুর একটি সবজি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। যদি এটা তৈরি হয়ে যায় তাহলে কৃষকরা বেশ উপকৃত হবেন।
