নালুয়া-বড়গুনী সড়ক ভাঙনের কবলে

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:০৩

দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

চিতলমারী উপজেলার নালুয়া-বড়গুনী সড়কে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত ঐ এলাকায় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটায় কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কতিপয় বালু ব্যবসায়ী ও খাল খননের পানি সেচের কারণে এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তিনটি বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন আটকসহ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৬/১ প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চিতলমারী সদর বাজারের ত্রি-মোহনা থেকে (বড়গুনী) মধুমতি নদী পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার হক ক্যানেলের পুনখনন কাজ শুরু হয়েছে। ওই ক্যানেলের পাড় ঘেঁষা এলজিইডির আওতাধীন নালুয়া গ্রোথ সেন্টার থেকে বড়গুনী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। ক্যানেল খননের শুরুতেই পানি সেচ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই রাস্তার ১৫০ ফুট কার্পেটিংসহ নদীগর্ভে বিলীন হতে বসেছে।

ঘটনাস্থল ঘোলা গ্রামের নাজিম শেখ, ছাব্বির মোল্লা ও বড়গুনী গ্রামের মো. কামরুজ্জামান এবং মো. মহসিন আলী বলেন, সম্প্রতি কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী এই ক্যানেল দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছে। তাই ক্যানেল পুনখননের জন্য পানি সেচ দেওয়ার সঙ্গে রাস্তা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ক্যানেল খননের জন্য পানি সেচ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘোলা নামক স্থানে রাস্তার ১৫০ ফুট কার্পেটিংসহ রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হতে বসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. শামীম আহসান জেভির স্বত্বাধিকারী মো. শামীম আহসান বলেন, শুনেছি বালু উত্তোলনের জন্য ঐ রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বললে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। চিতলমারী এলজিইডির সহকারী উপপ্রকৌশলী মো. রাশেদুজ্জামান খান  বলেন, পাকা সড়কটির ভাঙনকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার সকালে ঘটনান্থল পরিদর্শন করেছি। তিনটি বালু উত্তোলনের অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম মুঠোফোনে জানান, খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।